পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি কর্তৃপক্ষ ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে । কোম্পানিটির দাবি, পরিচালন ব্যয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করলেও ওই অর্থ আত্মসাতের কোনো প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক নথিতে এমন কোনো তথ্য নেই।
ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, গত ৩০ আগস্ট একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ‘গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সে ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে গত ৩১ আগস্ট ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কোম্পানিটিকে চিঠি দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ অক্টোবর কোম্পানিটি তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে ডিএসইকে চিঠি পাঠায়।
গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জামিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, প্রকাশিত সংবাদে কোম্পানির অতীতের গ্রস প্রিমিয়াম আয় ও পরিচালন ব্যয়ের যে পরিসংখ্যান উল্লেখ করা হয়েছে, তার কিছু অংশ কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়কে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ হিসেবে উপস্থাপন করাকে কোম্পানি ভুল ও বিভ্রান্তিকর।
চিঠিতে গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স স্বীকার করেছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের কয়েকটি বছরে কোম্পানির পরিচালন ব্যয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল। এ কারণে সংশ্লিষ্ট বছরগুলোর জন্য আইডিআরএ জরিমানা আরোপ করে।

কোম্পানির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ২০২১, ২০২২, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রতিটির জন্য পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। পাঁচ বছরের মোট জরিমানার পরিমাণ ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির দাবি, সব জরিমানা পরিশোধ করা হয়েছে এবং এসব আদেশের বিপরীতে বর্তমানে কোনো অর্থ বকেয়া নেই।
চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিচালন ব্যয়গুলো কোম্পানির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হিসাবের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আর্থিক লেনদেনের সমর্থনে ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ভাউচার ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি সংরক্ষণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজন হলে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের জন্য এসব নথি সরবরাহে প্রস্তুত রয়েছে কোম্পানি।
গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের দাবি, প্রায় ১০৪ কোটি টাকা বর্তমানে কোম্পানির প্রদেয় কোনো অর্থ নয় এবং বাংলাদেশের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) এ পরিমাণ অর্থের দায় কোম্পানির ওপর আরোপ করেনি। তাই অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়ের জন্য আরোপিত জরিমানাকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, প্রযোজ্য আইন ও নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি স্টক এক্সচেঞ্জ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও শেয়ারহোল্ডারদের কাছে তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


















