গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে পিচ্চি রাজাকে (৩০) আট দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে থাকা পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে শনিবার দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি তিনজনকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপপরিদর্শক (এসআই-এবি) প্রবীর কুমার ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন।
ঘটনাটি তদন্তে গঠিত পর্যবেক্ষণ কমিটি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে এখনো ঘটনার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। এমনকি পিচ্চি রাজা যে স্থান থেকে পালিয়েছেন বলে প্রথমে জানানো হয়েছিল, তদন্তে সেটিও সঠিক নয় বলে উঠে এসেছে। পালানোর স্থান নিয়ে পাঁচ পুলিশ সদস্য একেক সময় একেক ধরনের তথ্য দেওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে, পিচ্চি রাজা ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকে পালিয়েছেন।
ঘটনার পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁরা সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোন স্থান থেকে পালিয়ে গেছেন, তা নিয়েও তাঁরা একেক সময় একেক কথা বলছেন। যে স্থান থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।’

পর্যবেক্ষণ কমিটির সদস্য কোনাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘প্রিজন ভ্যান কারাগার থেকে আদালত এবং আদালত থেকে কারাগারের মধ্যে কোথাও থামার সুযোগ নেই। বড় কোনো বিপদ হলে নিকটবর্তী থানায় থামাতে হবে। কিন্তু তাঁরা যে স্থানে প্রিজন ভ্যান থামানোর কথা বলছেন, সেখানে থামানোর প্রশ্নই ওঠে না।’
তিনি আরও বলেন, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। পর্যবেক্ষণ কমিটির কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। এরপর বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরু হবে।
পুলিশ ও কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ আসামিকে ঢাকার আদালতে হাজিরা ও মামলার শুনানির জন্য নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে রাতে তাঁদের কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার পথে পিচ্চি রাজা শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যান। এর পর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। প্রায় আট দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা উপপরিদর্শক (এসআই, এবি) প্রবীর কুমার, কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব, কনস্টেবল শাকিল হোসেন ও প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পর্যবেক্ষণ কমিটি। তাঁদের মধ্যে পিচ্চি রাজাকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে প্রবীর কুমার ও কামাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

















