ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ন

পুঁজিবাজারে কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল আজ

পুঁজিবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য রয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দিতে পারেনি তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ শাহজাহান কবিরের আদালত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিন ধার্য করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের (হিরু), তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজী ফুয়াদ হাসান, কাজী ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ জুন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ১২০(বি) ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে ধারাবাহিক লেনদেন, প্রতারণামূলক ট্রেডিং, গ্যাম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে বাজারে কারসাজি করেন। এর ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার নথি অনুযায়ী, এ প্রক্রিয়ায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় এই অর্থকে অপরাধলব্ধ অর্থ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রধান আসামি আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের সহায়তায় ২৯ কোটি ৯৪ লাখ ৪২ হাজার ১৮৫ টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর করে অর্থের উৎস গোপন করেন। একই সঙ্গে তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৪২ কোটি ৩১ লাখ ৫১ হাজার ৯৮২ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আবুল খায়ের (হিরু) যেসব কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করেছেন বলে অভিযোগ, সেগুলোর মধ্যে প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড ও সোনালী পেপারস লিমিটেড রয়েছে। এসব কোম্পানিতে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ওইসব লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের কারসাজিতে সহায়তা করে সাকিব আল হাসান ২ কোটি ৯৫ লাখ ২ হাজার ৯১৫ টাকা ‘রিয়ালাইজড ক্যাপিটাল গেইন’-এর নামে আত্মসাৎ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ