ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫:০০ পূর্বাহ্ন

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন।

ইস্তাম্বুলে সংক্ষিপ্ত বিরতির পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলকে বহনকারী টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট স্থানীয় সময় সোমবার বিকেল ৬.২০ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটরশোভাযাত্রা সহকারে প্রধানমন্ত্রীকে ‘হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলের সামনে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন হাতে মিছিল ও স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রীও হাসিমুখে হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

নিউইয়র্ক সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান `হাইয়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলেই অবস্থান করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ক্ষুদ্র উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলে স্ত্রী জুবাইদা রহমান ছাড়াও তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিমানমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শামা ওবায়েদ, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।

এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, মিশিগান, জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ থেকে আসা নেতাকর্মীসহ নিউইয়র্কস্থ বিএনপি নেতা-কর্মীরা দুপুর থেকেই তাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আশপাশের এলাকায় ভীড় জমাতে থাকেন।

এ সময় তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন হাতে অপেক্ষা করতে থাকেন। মাঝেমধ্যে স্লোগান ধরেন- ‘ প্রধানমন্ত্রী আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম। ‘

নেতাকর্মীরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর শুধুমাত্র একটি প্রটোকলভিত্তিক সমাবেশ নয়, বরং বৈশ্বিক নীতিনির্ধারক ও মার্কিন মহলের সামনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরার এক উন্মুক্ত মঞ্চ।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, নারী ও যুব ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট এবং বহুমুখী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার প্রাধান্য পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর ​সফরসূচি:

​২২ সেপ্টেম্বর: ​সকালে জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস আয়োজিত বিশ্বনেতা ও তাঁদের জীবনসঙ্গীদের জন্য স্বাগত প্রাতরাশ।

​ইউএনজিএ-এর ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্বে যোগদান। ​তুর্কির রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোয়ান, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ এবং হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ার ফিলস-আইমে-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

মিয়ানমার বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত জুলি বিশপ, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তা, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহ, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক এবং মেটা প্ল্যাটফর্মসের প্রধান বৈশ্বিক বিষয়াবলি কর্মকর্তা জোয়েল কাপলানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।

সন্ধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

​২৩ সেপ্টেম্বর: ​জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।

রোহিঙ্গা সংকট সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে অংশগ্রহণ। ‘জলবায়ু পদক্ষেপ এবং ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অংশ নেওয়া।

ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ প্লেনকোভিচের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। বোয়িং গ্লোবাল-এর প্রেসিডেন্ট ড. ব্রেন্ডন নেলসনের সাক্ষাৎ ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান।

​২৪ সেপ্টেম্বর: ​সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির হুমকি বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য প্রদান। ​পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

​মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু রোধ সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রারম্ভিক বক্তব্য।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের সাথে বৈঠক।

​জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ: নিউইয়র্ক সময় বিকেল আনুমানিক ৫:৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর

বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে (সময়ে পরিবর্তন হতে পারে)। তাঁর জন্য বরাদ্দকৃত সময় ১৫ মিনিট।

এরপর ​রাতে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নৈশভোজে অংশগ্রহণ।

২৫ সেপ্টেম্বর: ​জেপিমরগান হেডকোয়ার্টার্সে ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সাথে প্রাতরাশ বৈঠক।

​কুয়েতের যুবরাজ শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ-র সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

​ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জাইদ আল হুসেইনের সাথে মধ্যাহ্নভোজ।

​যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের সাথে মতবিনিময়।

​রাত ১১:০০ টায় (নিউইয়র্ক সময়) এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে ​প্রধানমন্ত্রী আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বাবা-মায়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে সফর অনন্য নজির স্থাপন করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ