ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ন

নুসরাত হত্যা মামলায় খালাস: কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ১০ জন

মুক্তির পর ফেনীর কারাগার থেকে বের হওয়ার পর মাকসুদ আলমকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বজনরা। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় খালাসের আদেশপ্রাপ্ত ১০ আসামি তিনটি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফী হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পাওয়া ১০ জন কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের মধ্যে মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফেনী জেলা কারাগার থেকে এবং রুহুল আমিন চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তাঁরা পরিবারের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে দেখা করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

মাকসুদ আলম সোনাগাজী উপজেলার চরগণেশ এলাকার মৃত আহসান উল্যাহর ছেলে। তিনি সোনাগাজী পৌরসভার তৎকালীন কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

রুহুল আমিন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি এবং সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন গভর্নিং বডির সহসভাপতি ছিলেন। তাঁর বাড়ি উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকা।

মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে রুহুল আমিনের চাচাতো ভাই রানা ও মাকসুদ আলমের ছেলে জয় পরিবারের পক্ষ থেকে স্বস্তি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, ‘সময় লাগলেও দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আল্লাহর দরবারে লক্ষ কোটি শুকরিয়া—আলহামদুলিল্লাহ।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জনকে খালাস এবং চারজনের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। অপর দুই আসামি সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

মুক্তির পর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বের হচ্ছেন রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত
মুক্তির পর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে বের হচ্ছেন রুহুল আমিন। ছবি: সংগৃহীত
হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে খালাস পাওয়া ১০ আসামির মধ্যে মাকসুদ আলম ও রুহুল আমিনও রয়েছেন। খালাসপ্রাপ্ত অপর আটজন হলেন কামরুন নাহার মনি, হাফেজ আব্দুল কাদের, মহিউদ্দিন শাকিল, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, আব্দুর রহিম শরীফ, মোহাম্মদ শামীম, ইফতেখার উদ্দিন রানা ও আবছার উদ্দিন।

মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের ও উম্মে সুলতানা ওরফে পপির।

এর আগে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে হাইকোর্টের খালাসের আদেশের অনুলিপি ফেনী জেলা কারাগারে পৌঁছায়। ফেনী জেলা কারাগারের জেল সুপার মো. আব্দুল জলিল ও জেলার কাজী মাজহারুল ইসলাম জানান, আদালতের আদেশের ভিত্তিতে সোমবার মাকসুদ আলমকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে রুহুল আমিন চট্টগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। খালাসপ্রাপ্ত অপর সাত আসামিরও গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং কামরুন নাহার মনির গাজীপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

যেভাবে হত্যা করা হয় নুসরাতকে
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নিয়ে হাত-পা বেঁধে তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় তাঁর বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে আসামিরা উচ্চ আদালতে আপিল করেন।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ে ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণের মতো পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ