ঢাকা, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন

পাচার হওয়া অর্থের ফ্রিজ হিসাব থেকে কর আদায়ে ৭ সদস্যের কমিটি

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের আদেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের বিষয়ে মতামত ও সিদ্ধান্ত দিতে সাত সদস্যের একটি আন্তমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে।

আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ ও সংযুক্ত ব্যাংক হিসাব থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির সদস্য হিসেবে থাকছেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানি লন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি।

এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে কমিটির কার্যপরিধি সম্পর্কে বলা হয়েছে, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালতের আদেশে ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা ব্যাংক হিসাব থেকে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে কমিটি।

এ জন্য বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ দেবে কমিটি।

বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, অর্থের লেনদেনের গতিপথ শনাক্ত এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকায় সমন্বিত উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে। বিশেষ করে আদালতের আদেশে কোনো অর্থ বা সম্পদ অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে সরকারের পাওনা আদায়ে যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।

সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই কমিটির মাধ্যমে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হবে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ