ঢাকা, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৪৯ অপরাহ্ন

লভ্যাংশ বিতরণ না করায় শাস্তির মুখে আফতাব অটো

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি আফতাব অটোমোবাইলস শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদিত লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ে বিতরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে লভ্যাংশ বিতরণের পর কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতাও পরিপালন করেনি। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি জানায়, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের অবণ্টিত লভ্যাংশ বুঝিয়ে দিতে হবে। নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, তিন পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবকে ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যক্তিগত জরিমানা গুনতে হবে। নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হলে প্রতিদিন আরও ১০ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত জরিমানা গুনতে হবে। সম্প্রতি বিএসইসির এনফোর্সমেন্ট বিভাগ থেকে জারি করা হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ।

বিএসইসির আদেশ অনুযায়ী, আফতাব অটোমোবাইলসের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলামকে ৩০ লাখ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলামকে ৩০ লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া তিন পরিচালক— খালেদা ইসলাম, সাজেদুল ইসলাম ও ফারহানা ইসলামের প্রত্যেককে ২০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তৎকালীন সিএফও সাহাদাত হোসেন মিয়াকে ১০ লাখ এবং কোম্পানি সচিব রাহাত মাহমুদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএসইসি স্পষ্ট করেছে, এই জরিমানা অবণ্টিত লভ্যাংশ পরিশোধের দায় থেকে কোম্পানিকে অব্যাহতি দেবে না।

আদেশে বলা হয়েছে, আফতাব অটোমোবাইলসের পর্ষদ ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল। পরে ওই বছরের ২৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) তা অনুমোদন করা হয়। প্রচলিত সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী, এজিএমে অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে লভ্যাংশ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে ২০২৪ অর্থবছরের লভ্যাংশ ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারির মধ্যে বিনিয়োগকারীদের পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা করা হয়নি। বিএসইসি এটিকে উল্লেখ করেছে আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে।

শুধু লভ্যাংশ পরিশোধেই ব্যর্থতা নয়, বিতরণ শেষ হওয়ার সাত কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন ও স্টক এক্সচেঞ্জে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার বিধানও পরিপালন করেনি কোম্পানিটি। আদেশে উল্লেখ করা হয়, এর মাধ্যমে বিএসইসির ২০২১ সালের নির্দেশনা, ডিএসইর তালিকাভুক্তি বিধিমালা এবং ডিপজিটরি প্রবিধানমালার সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘিত হয়েছে। এ ঘটনায় এনফোর্সমেন্ট বিভাগ ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর কোম্পানির ইস্যুয়ার, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কোম্পানি সচিব ও সিএফওকে কারণ দর্শানোসহ শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেয়। পরে শুনানি অনুষ্ঠিত হয় ১৭ নভেম্বর।

শুনানিতে কোম্পানির পক্ষে কোম্পানি সচিব রাহাত মাহমুদ ও সিনিয়র ডেপুটি ম্যানেজার নাফিস আহমেদ জানিয়েছেন, মোট প্রদেয় লভ্যাংশের ৮৪ দশমিক ৩৪ শতাংশ এরই মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি অর্থ ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এ কারণে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। তবে কোম্পানির এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য হয়নি বিএসইসির কাছে।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ