ঢাকা, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ন

টালমাটাল শেয়ারবাজার, জরুরি বৈঠকে বসছে ডিএসই-ডিবিএ

টানা দরপতন, বিক্রির চাপ ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকটে অস্থির দেশের শেয়ারবাজার। বড় পতনের পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং সাম্প্রতিক ধারাবাহিক দরপতনে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজারের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা এবং অস্থিরতা মোকাবিলায় জরুরি বৈঠকে বসছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও ডিএসই ব্রোকারেজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)।

আগামীকাল মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ডিএসইর বোর্ডরুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সাম্প্রতিক দরপতনের কারণ, বাজারে বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্রোকারেজ হাউসগুলোর করণীয় নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

এর আগে রোববার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বড় ধাক্কা খায় শেয়ারবাজার। ওই দিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১০৩ পয়েন্ট বা প্রায় ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। প্রায় আড়াই মাসের মধ্যে এটিই ছিল সূচকটির সর্বনিম্ন অবস্থান।

দরপতনের চিত্র ছিল আরও স্পষ্ট শেয়ারের দরে। সেদিন ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৮৯টি কোম্পানির মধ্যে ৩৪৮টির শেয়ারদর কমেছে। বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ২০টির। ফলে বাজারজুড়ে বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু সূচক নয়, লেনদেনেও ছিল দুর্বলতা। রোববার ডিএসইতে মোট ৫৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ১৭৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

একই সঙ্গে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা কমেছে ডিএসইর বাজার মূলধন। দিন শেষে বাজার মূলধন নেমে আসে প্রায় ৬ লাখ ৯১ হাজার কোটি টাকায়। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাশাপাশি বাজারের সামগ্রিক আকারও সংকুচিত হয়েছে।

বাজারের এই দুর্বল অবস্থার পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিনের গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় ও মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেনের তথ্য চেয়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে চিঠি দেওয়া এবং কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েও বাজারে আলোচনা রয়েছে। একাধিক ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তার মতে, এসব ঘটনায় কিছু বড় বিনিয়োগকারী সতর্ক হয়ে শেয়ার বিক্রির দিকে ঝুঁকছেন। এর প্রভাব পড়ছে বাজারের ওপরও।

তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধু একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট, কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ আয় নিয়ে উদ্বেগ, বিক্রির চাপ এবং বিনিয়োগকারীদের মানসিক অস্থিরতা একসঙ্গে বাজারকে চাপে ফেলেছে।

এদিকে নতুন সরকার ও পুনর্গঠিত নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক দরপতনে সেই প্রত্যাশাও অনেকটা ধাক্কা খেয়েছে। বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়াবে এমন আশা থাকলেও ধারাবাহিক পতন সেই আস্থায় চাপ তৈরি করেছে।

এর আগে আগস্ট মাসেও শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন দেখা যায়। ওই মাসে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমে ২৯৭ দশমিক ৫০ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে ৮৭৬ কোটি টাকায় নেমে আসে।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের ডিএসই-ডিবিএ বৈঠকের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু এক দিনের সূচক বৃদ্ধি দিয়ে বাজারের পরিস্থিতি ভালো হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আস্থা ফেরাতে প্রয়োজন ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতা এবং স্থিতিশীল লেনদেন।

তাদের মতে, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাজারে অস্বাভাবিক লেনদেন বা কারসাজির কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখা দরকার। বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক কমিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বাজারের সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

এখন দেখার বিষয়, ডিএসই ও ডিবিএর জরুরি বৈঠক থেকে বাজারের এই অস্থিরতা কমাতে কী ধরনের উদ্যোগের কথা আসে এবং সেই উদ্যোগ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে কতটা কার্যকর হয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ