নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে বারবার ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডকে (এসিএএমএল) ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছে।
বিএসইসি বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট এই এনফোর্সমেন্ট আদেশ জারি করে অ্যাসেট ম্যানেজারকে ৩০ দিনের মধ্যে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে জরিমানা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এসিএএমএল ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচুয়াল ফান্ড) রুলস, ২০০১’-এর ৩৩(৩) বিধি লঙ্ঘন করেছে; এই বিধিতে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলোর জন্য অর্থবছর শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোম্পানিটি ৩০ জুন ২০২৩ তারিখে সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিএসইসি আরও উল্লেখ করেছে যে, এসিএএমএল ২০২২ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিধিবদ্ধ সময়সীমার প্রায় এক মাস পর জমা দিয়েছিল; এই ধারাবাহিক বিলম্বকেই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবে এবং গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ব্যক্তিগত শুনানিতে, এসিএএমএল-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও আসাদুল ইসলাম এবং গবেষণা বিভাগের প্রধান আশিক রায়হান নিয়ম না মানার কারণ হিসেবে মূলত কোম্পানির কার্যক্রমে সৃষ্ট তীব্র স্থবিরতাকে দায়ী করেছেন।তারা জানিয়েছে যে, বিএসইসি এর চলমান একটি তদন্তের জেরে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনায় থাকা দুটি তহবিলের—‘এমটিবি ইউনিট ফান্ড’ ও ‘অ্যালায়েন্স সন্ধানী লাইফ ইউনিট ফান্ড’—লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

কোম্পানিটি যুক্তি দিয়েছে যে, তাদের আর্থিক প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি এই তহবিলগুলোর পারফরম্যান্স বা ফলাফলের সাথে সম্পর্কিত হওয়ায় তারা তাদের করপোরেট অডিট বা নিরীক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারিনি।
এসিএমএল এই স্থগিতাদেশের ফলে সৃষ্ট ব্যাপক পরিচালনগত ব্যাঘাতের কথাও উল্লেখ করেছে; এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে কর প্রদান, বার্ষিক সাধারণ সভা আয়োজন, নিয়ন্ত্রণমূলক ফি ও অফিসের ভাড়া পরিশোধ, প্রয়োজনীয় জনবল বজায় রাখা এবং মৌলিক পরিচালন ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ফি সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাদের অক্ষমতা।
সম্পদ ব্যবস্থাপক দাবি করেন যে প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতা ছিল অনিচ্ছাকৃত এবং তারা কমিশনের কাছে বিষয়টি নমনীয়ভাবে বিবেচনার অনুরোধ জানান। তবে বিএসইসি এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে; কারণ কমিশন মনে করে যে নিয়ম না মানার বিষয়টি ছিল ইচ্ছাকৃত এবং তা পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও শৃঙ্খলার জন্য ক্ষতিকর।
বিএসইসি জানায়, বিধিবদ্ধ প্রতিবেদন দাখিলের বাধ্যবাধকতা পালনে ব্যর্থতা ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩’-এর ১৮ ধারার অধীনে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ এবং বাজারের স্বচ্ছতা ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় এর জন্য আর্থিক জরিমানা আরোপ করা প্রয়োজন।
বিজনেস আই/


















