ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ পূর্বাহ্ন

বরগুনায় বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে উত্তেজনা, অস্ত্র-গুলিসহ আটক ৫

বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে একটি বিদেশি অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। একই দিনে পৃথক অভিযানে একটি এয়ারগানও উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় শহরের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করে পুলিশ।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিটন সিকদারের ছেলে লিমন সিকদার (২৮), কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনার কেওড়াবুনিয়ার শাহআলমের ছেলে মো. জামাল (২৭), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ খান (৩৫) এবং বরগুনার কেওড়াবুনিয়ার মোসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় মোল্লা (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এর জেরে নজরুল ইসলাম মোল্লার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের গ্রুপ বুধবার পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়। এতে শহরজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। স্থানীয়দের সহায়তায় ওই এলাকা থেকে অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। এ ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিতের নির্দেশ দেয়।

এদিকে বিকেল ৪টার দিকে পৃথক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে একটি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় তালতলী শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েকদিন ধরে আমাকে ও আমার লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে আনা হয়েছিল। তাদের কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন,বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, দুই গ্রুপের বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, ওই এলাকায় অস্ত্রসহ কয়েকজন অবস্থান করছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র ও চার রাউন্ড গুলিসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন, দুটি স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দুই পক্ষকেই সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ