ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ন

কানাডার পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। আমেরিকান গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের ক্ষেত্রে কানাডা বৈষম্যমূলক আচরণ করছে বলে অভিযোগ তুলে সোমবার (১৯ জুলাই) তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নতুন শুল্কের আওতায় রয়েছে ওয়াইন, হকিস্টিকের মতো ভোক্তা পণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও মাছের মতো কানাডার কয়েকটি প্রধান রপ্তানিপণ্যকে এই শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা আরও জোরদার করতে তারা প্রস্তুত।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ইউএসএমসিএ চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র যে একতরফা পদক্ষেপ নিচ্ছে, এটি তার সর্বশেষ উদাহরণ।”

কার্নি আরও কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির কথা উল্লেখ করেছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প আগে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেই প্রেক্ষাপটেই এই মন্তব্য এসেছে।

গতকাল সোমবারের এই ঘোষণার আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা চলছিল। বর্তমানে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর যুক্তরাষ্ট্র ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক বহাল রেখেছে। এছাড়া সফটউডের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি গাড়ির যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আদায় করছে ওয়াশিংটন।

জবাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক বসিয়েছে।

সম্প্রতি কানাডায় দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়ায় ট্রাম্প আগে শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন। তবে গতকালের নির্বাহী আদেশে দাবানলের কোনো উল্লেখ নেই। বরং গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদ নিয়ে দীর্ঘদিনের বাণিজ্য বিরোধকেই তুলে ধরা হয়েছে।

গাড়ি খাতে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএ চুক্তির বাইরের আমেরিকান গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা অতিরিক্ত কর আরোপ করে, যা বৈষম্যমূলক। দুগ্ধজাত পণ্য নিয়েও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা রয়েছে। কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনার কারণে বিদেশি দুগ্ধপণ্য আমদানিতে কড়া সীমা ও উচ্চ শুল্ক রয়েছে। এছাড়া কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মদ কার্যত বর্জন করা হয়েছে।

কানাডার বাণিজ্য প্রতিনিধিরা বর্তমানে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। তারা চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান শুল্ক অন্তত কিছুটা কমানো যাক।

এদিকে চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি যেমন আছে তেমনি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তিতে পরিবর্তন আনতে চায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন এই শুল্ক আরোপের ফলে উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও খারাপ হতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ