আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশন প্রদেশে ৫.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। গতকাল বুধবার (১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্প হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের ভূকম্পণ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
তবে ভূমিকম্পে এখনও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে, ভূপৃষ্ঠের ১৭৩ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প বিরল কোনো দুর্যোগ নয়। ভৌগলিকভাবে উচ্চমাত্রার সিসমিক জোনের ওপর অবস্থানের কারনে প্রায়েই ভূমিকম্প হয় দেশটিতে।
এর আগে গত ২৭ জুন ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল আফগানিস্তানে। সেই ভূমিকম্পেও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে সর্বশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে বাড়িঘরের ছাদ-দেয়াল ধসে নিহত হয়েছিলে ৭ জন এবং আহত হয়েছিলেন ১৫০ জন।

রেড ক্রসের মতে, আফগানিস্তানে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়, বিশেষ করে হিন্দুকুশ অঞ্চলে, যা একটি অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত।
আফগানিস্তানের এই ভূমিকম্প-ঝুঁকির কারণ হলো ভারতীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষ অঞ্চলের মাঝামাঝি এর ভৌগোলিক অবস্থান। এছাড়া হেরাত অঞ্চলসহ দেশটির বেশ কিছু অংশের ওপর দিয়ে একটি প্রধান ফল্ট লাইন (ফাটল রেখা) চলে গেছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়কারী সংস্থা (UNOCHA) উল্লেখ করেছে যে, আফগানিস্তান ভূমিকম্প, ভূমিধস এবং ঋতুভিত্তিক বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বছরের পর বছর ধরে চলা সংঘাত ও সীমিত উন্নয়নের কারণে ইতিমধ্যে সংকটে থাকা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি একের পর এক ভূমিকম্পের ফলে আরও খারাপ হচ্ছে। ফলে বারবার আসা এসব বড় ধাক্কা সামলানোর মতো ন্যূনতম সক্ষমতাও তাদের থাকছে না।


















