সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকা প্রকাশ করেছে। আর এই তালিকায় রয়েছে পুঁজিবাজারে জ্বালানি খাতে মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানি ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেড। ‘এ’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন ইতিবাচক থাকা সত্ত্বেও কেন ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকায় রয়েছে, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা।
ডিএসই জানায়, আর্থিকভাবে দুর্বল এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগ করে যাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে লক্ষ্যেই এই সতর্কতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মূলত এসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে ‘রেড এলার্ট’ জারি করে বিনিয়োগকারীদের সচেতন করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জনসংযোগ কর্মকর্তা শফিকুর রহমান বিজনেস আই বাংলাদেশকে জানান, ডরিন পাওয়ারের অডিটর রিপোর্টের ভিত্তিতে কোম্পানিটিকে ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির তালিকায় রাখা হয়েছে। এখানে ডিএসইর কোন দায় নেই। কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করেই এই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি ২০১৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর থেকে বিনিয়োগকারীদের ভালো লভ্যাংশ দিয়ে ‘এ’ ক্যাাাগরিতে রয়েছে।
ডরিন পাওয়ারের আর্থিক অবস্থাঃ–

কোম্পানির আয়ঃ- ডরিন পাওয়ার ২০২২ সালে ১৫০২ কোটি টাকা,২০২৩ সাল ১৮৪৩ কোটি টাকা, ২০২৪ সালে ১৩৩৪ কোটি টাকা ও ২০২৫ সালে ১৫০৬ কোটি টাকা আয় করেছে।
কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় বা EPS:- ২০২৩ সাল ৩.৫৬ টাকা,২০২৪ সালে ১.৮১ টাকা , ২০২৫ সালে ৩.১৯ টাকা ও ২০২৬ সালে ৪.১৯ টাকা (৯ মাসে) আয় করেছে।
কোম্পানির রিজার্ভ আছে ৭৬০ কোটি টাকা, শেয়ার প্রতি সম্পদ আছে (NAV Per Share) ৫২ টাকা।
কোম্পানিটির লভ্যাংশ চিত্র
গত পাঁচ বছরে লভ্যাংশ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কোম্পানিটি ২০২১ সালে ২৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ৩০ শতাংশ, ২০২৩ সালে ১১ শতাংশ, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ১০ শতাংশ করে লভ্যাংশ দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বিনিয়োগকারী জানান,১৫০০ কোটি টাকার উপর আয় করা একটি কোম্পানিকে ডিএসই যে ভাবে সঙ্কটাপন্ন কোম্পানির তালিকায় দিয়ে রেখেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। যদিও বছরের পর বছর ডিভিডেন্ড দেয় না, আর্থিক বিবরণী প্রকাশ করে না এমন কি বছরের পর বছর এজিএম করে না এমন কয়েক ডজন কোম্পানি আছে যা ডিএসইর বন্ধ বা সঙ্কটাপন্ন কোম্পানির তালিকায় নেই।
আশাকরি ডিএসই গুরুত্তের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করবেন। কারন বিনিয়োগকারীর বিনিয়োগের সুরক্ষা নিশ্চিত হয় সঠিক তথ্যের উপর ভিত্তি করে।
জানা গেছে, নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ৪২টি কোম্পানিকে ‘গোয়িং কনসার্ন থ্রেট’ বা ব্যবসা পরিচালনায় অনিশ্চয়তার ঝুঁকিতে থাকা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি কোম্পানি বন্ধ প্রতিষ্ঠানের তালিকাতেও রয়েছে। ফলে কার্যত ৩০টি সক্রিয় কোম্পানিকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ডিএসই।
ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, বিডি সার্ভিসেস, বিডিথাই ফুড, বিআইএফসি, সেন্ট্রাল ফার্মা, ঢাকা ডায়িং, ডরিন পাওয়ার, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, ফার্স্ট ফাইন্যান্স, জিএসপি ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, মেঘনা সিমেন্ট, প্রাইম ফাইন্যান্স, সানলাইফ ইনস্যুরেন্স, তাল্লু স্পিনিং এবং ঝিল বাংলা।
বিজনেস আই/


















