সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা খাতে ব্যয় বেড়েছে। আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।
সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় যাবে মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় আগামী অর্থ বছরে ৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সরকারি কর্মচারীরা প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোয় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। এরই মধ্যে মূল্যস্ফীতিজনিত কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমরা সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দিচ্ছি।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতায় বরাদ্দ রাখা হয়েছিল ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। তবে বছর শেষে সংশোধিত বাজেটে তা কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকায়।
সে তুলনায় আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এ খাতে ৪ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা বেশি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকৃত হিসাব অনুযায়ী এ খাতে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৬৯ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা।
ফলে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে সরকারি বেতন-ভাতা খাতে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ১২ হাজার ৯২৭ কোটি টাকা।
অর্থাৎ কর্মকর্তাদের বেতন খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ৯৪৭ কোটি টাকা। একই সঙ্গে কর্মচারীদের বেতন বাবদ বরাদ্দ বাড়িয়ে ৩০ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৯ হাজার ১৭০ কোটি টাকা। এ উপখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে ১ হাজার ৫০১ কোটি টাকা।
বরাবরের মতো বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যয় হবে ভাতাদি খাতে। এ খাতে নতুন বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪৪ হাজার ৮৩৫ কোটি, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ৪২ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। এ খাতে এককভাবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ বাড়ছে


















