ইরানের সঙ্গে চলমান রক্তক্ষয়ী ও উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখন সমাধানের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারের একটি অংশে তাকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘আমার মনে হয়, এই যুদ্ধ এখন সমাপ্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং আমরা একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছি।’
নিজের বক্তব্যের ওপর জোর দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় সংঘাতটি এখন একদম শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে অবস্থান করছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি চলছে এবং ওয়াশিংটন থেকে তেহরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক ও নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ইতিবাচক বার্তা মূলত আলোচনার টেবিলে ইরানকে বিশেষ কোনো চুক্তিতে আসতে রাজি করানোর একটি কৌশলগত অংশ হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং বিশ্ব তেলের বাজারে এই সংঘাত অবসানের ইঙ্গিত এক ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

যদিও হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা শান্তি চুক্তির খসড়া প্রকাশ করা হয়নি, তবুও ট্রাম্পের মতো শীর্ষ নেতৃত্বের মুখে এমন কথা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন গতির সঞ্চার করেছে। তবে সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যতক্ষণ না হরমুজ প্রণালি এবং পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে দুই দেশ একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছে, ততক্ষণ যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া কঠিন।
গত কয়েক মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সরাসরি সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছিল। বিশেষ করে তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় চীন ও ভারতের মতো বৃহৎ আমদানিকারক দেশগুলো সংকটে পড়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ শেষের বার্তা কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিকভাবেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর রয়েছে ইসলামাবাদের পরবর্তী শান্তি আলোচনার দিকে, যেখানে চূড়ান্ত কোনো সমঝোতার মাধ্যমে ট্রাম্পের এই দাবির প্রতিফলন ঘটে কি না।
সূত্র: আল জাজিরা


















