ঢাকা, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৩ অপরাহ্ন

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের দায় নিজ কাঁধে নিলেন ট্রাম্প

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের শুরু করা যুদ্ধ লড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। একদিন আগে এমন মন্তব্যই করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে এবার ইসরাইল ইস্যুতে সামনে আসলো ট্রাম্প প্রশাসনের মতভেদ। রুবিওর এমন দাবি সরাসরি প্রত্যাখান করে ইসরাইলের সমস্ত দায়ভার নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তিনি বলেন, তেলআবিব তেহরানে হামলার উসকানি দেয়নি, বরং আমিই হয়তো তাদের এ যুদ্ধে জড়িয়েছি। কারণ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার সময় আন্দাজ করেছিলাম যে তেহরান আগে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালাবে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) হোয়াইট হাউসে জার্মান চ্যান্সেলরের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। পরে তারা সংবাদ সম্মেলন করেন।

হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন সেনারা এক হাজার সাতশোর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক অভিযান শেষ হতে হতে ইরানের সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি ইরান প্রথমে আক্রমণের পরিকল্পনা করেছিল। আর আমি সেটা চাচ্ছিলাম না। তাই, যেকোনো ক্ষেত্রে, আমি ইসরাইলের সাহায্য নিয়ে এই অভিযান শুরু করেছি। যদিও ইসরাইল প্রস্তুত ছিল, আমরা প্রস্তুত ছিলাম। আর আমরা একটি খুবই শক্তিশালী প্রভাব ফেলেছি, কারণ ইরানের প্রায় সবকিছুই এখন ধ্বংস হয়েছে এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমছে।’

ট্রাম্পের মতে, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি হবে যদি ইরানের নতুন নেতা আগের মতোই ক্ষতিকর হয়। তিনি বিদেশে নির্বাসিত রেজা পালাহভিকে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জন্য উপযুক্ত মনে করেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের মধ্য থেকেই নতুন নেতা বেছে নেওয়া উচিত হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। স্যোশাল মিডিয়ায় দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিল। এখন ইরানের সঙ্গে আলোচনার সময় পার হয়ে গেছে।

এদিকে, গত ৩ মার্চ সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনি। মূলত বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্ট মুজতবাকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

এর আগে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে। ইরানের রাজধানী তেহরানে চালানো হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা নিহত হন। জবাবে ইসরাইলে পাল্টা হামলা শুরু করে ইরান। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ