ঢাকা, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ন

কর্মী প্রেরণে এজেন্সির তালিকা চেয়েছে মালয়েশিয়া

স্বপ্নের দেশ মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দীর্ঘ দিন যাবত বন্ধ রয়েছে। বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশটিতে কর্মী প্রেরণ বন্ধ থাকায় বিভিন্ন রুটে ভিজিট ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার বৈধ প্রক্রিয়ায় দেশটির বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিক চেয়েছে কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার মাধ্যমে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিক চেয়ে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়েছে।

দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ে শিগগিরই বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিক পাঠানোর জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। এসব তালিকা পাওয়া গেলে রিক্রুটিং এজেন্সি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের ব্যাপারে চূড়ান্ত কার্যক্রম শুরু হবে। কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। অপর দিকে, কুয়ালালামপুরস্থ মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান তান শ্রী আজম বাকি বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে অভিবাসী কর্মী নিয়োগের জন্য একটি বাংলাদেশি সিন্ডিকেটর সাথে জড়িত অর্থ পাচারের অভিযোগের সমর্থনে সংস্থাটি কিছুই খুঁজে পায়নি।

স্কুপকে দেয়া এক বার্তায় তান শ্রী আজম বাকি বলেন, বিদেশি কর্মীদের কাছ থেকে আদায় করা ফি অর্থ পাচারের দাবির বিরুদ্ধে আরেকটি তদন্ত থেকে আলাদা ছিল এবং কোনও তদন্তেই অন্যায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের সাথে সম্পর্কিত অর্থ পাচারের অভিযোগগুলো এম এসিসি তদন্ত করেছে, কিন্ত কোনও প্রমাণ পায়নি। শ্রমিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের কারণে মালয়েশিয়ায় বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার দাবির সমর্থনের কোনো প্রমাণ পায়নি।

এদিকে, মালয়েশিয়া কর্মী প্রেরণে আশার আলো দেখা যাচ্ছে, গত বছরের ৩১ মে’র মধ্যে যেতে না পারা কর্মীদের প্রথম দলে ৬০ জন কর্মীর একটি ফ্লাইট গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় জানায়, দীর্ঘ অপেক্ষা ও সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও ইতোপূর্বে মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের প্রেরণ কার্যক্রম গতকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের গত ৩১ মে তারিখের মধ্যে সব ধাপ সম্পন্ন করেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে যাত্রা করতে না পারা বাংলাদেশি কর্মীদের সরকারি উদ্যোগে বোয়েসেলের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ প্রথম দফায় ৬০ জন কর্মী মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে মালয়েশিয়া বহির্গামী এসব কর্মীদের বিদায় জানান। আসিফ নজরুল সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও যেতে না পারা কর্মীদের মালয়েশিয়ায় প্রেরণের এই সফলতার জন্য প্রধান উপদেষ্টার প্রচেষ্টা এবং মালয়েশিয়া সরকারের আন্তরিকতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর স্বপ্ন সার্থক হলো।

তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমর্থনে আন্দোলন করার দায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৮৮ বন্দিকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও আমরা করছি। প্রবাসীদের কল্যাণে বর্তমান সরকার গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণে সরকার বদ্ধপরিকর।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংবর্ধিতদের পক্ষে মালয়েশিয়াগামী কর্মী রনি মিয়া তাদের স্বপ্ন পূরণে প্রধান উপদেষ্টার আন্তরিক উদ্যোগ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টার নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বাংলাদেশ সফরকারী মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়া যেতে না পারা কর্মীদের নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

চলতি বছরের মে মাসে (১৩-১৬) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী মালয়েশিয়া সফর করেন। এর ধারাবাহিকতায় গত ২১-২২ মে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ৩য় জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় ১৭ হাজার ৭৭৭ জন কর্মীর মধ্যে ২০২৪ সালের ৩১ মে তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া যেতে না পারা মোট ৭ হাজার ৮৭৩ জন কর্মীকে প্রেরণের জন্য বোয়েসেলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুধুমাত্র কনস্ট্রাকশন ও ট্যুরিজম এ দুটি খাতে কর্মী প্রেরণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চলতি বছরের গত ৭ আগস্ট কন্সট্রাকশন লেবার এক্সচেঞ্জ সেন্টার বারহাদ (সিএলএবি) সঙ্গে কর্মী প্রেরণ বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হয়। উদ্যোগের প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ার নিয়োগকারী সরকারি প্রতিষ্ঠান কন্সট্রাকশন লেবার এক্সচেঞ্জ সেন্টার বারহাদ থেকে ৫০০ জন কর্মীর চাহিদা পাওয়া যায়। ইতোমধ্যে এই ৫০০ জনের মধ্যে ২৫৫ জন কর্মীর ভিসা পাওয়া গেছে এবং তাদের চূড়ান্ত গমনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ