ঢাকা, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৩:০৮ অপরাহ্ন

মানব পাচারকারী চক্রের গোপন আস্তানা থেকে ৮৪ জন উদ্ধার, আটক ৩

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকারী চক্রের গোপন পাহাড়ি আস্তানায় বিজিবি-র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ৮৪ জন মালয়েশিয়া গামীকে তরুণকে উদ্ধার করেছে। এসময় মানব পাচারকারীর চক্র গোপন আস্তানা থেকে গুলি চালায়। ঘটনাস্থল থেকে তিন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে টেকনাফ -২ বিজিবির ব্যাটালিয়নে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান এবং কক্সবাজার র‌্যাব ১৫ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান।

আটক মানব পাচারকারী সদস্যরা হলেন, টেকনাফের বাহারছড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ (২১), একই এলাকার সাইফুল ইসলাম (২০), ও মোঃ ইব্রাহিম (২০)

র‌্যাবের অধিনায়ক লে. কর্নেল কামরুল হাসান বলেন, ‘টেকনাফের বাহারছড়া কচ্ছপিয়ায় গহীন পাহাড়ে একটি পাচারকারী চক্র মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে নেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে আটক রাখার খবরে রোববার রাতে বিজিবি-র‌্যার সদস্যরা প্রথমে বাহারছড়া পাহাড়ি এলাকা থেকে ৩জন পাচারকারীকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের লোমহর্ষক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতে পাহাড়ে আমরা সমন্বিতভাবে বৃহৎ যৌথ অভিযান পরিচালনা করি। এতে আলাদাভাবে পাচারকারীদের তিনটি পাহাড়ি আস্তানা থেকে ৮৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদেরকে পাচারের জন্য জড়ো করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘ বিজিবি ও র‌্যাবের ১২ ঘন্টার দুঃসাহসিক অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটার গান ও একটি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও, তাদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি দেশীয় রামদা ও একটি চাকু, ৩টি অস্ত্রের চেম্বার থেকে ৩ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে টেকনাফ ২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, ‘সম্প্রতি সময়ে টেকনাফে পাহাড়ি মানব পাচারের বেশ কয়েকটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। ফলে আমরা টহল-নজরদারীর মাধ্যমে পাহাড়ে অভিযান পরিচালনা করছি। এরই অংশ হিসেবে আমরা কয়েকটি পাহাড়ে মানব পাচার চক্রের আস্তানায় হানা দিয়ে সমুদ্রপথে মিয়ানমার হয়ে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ৮৪ জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তাদের মধ্যে যেমন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছে

তিনি বলেন, ‘ বাংলাদেশে অবস্থানরত হোসেন, সাইফুল ও নিজাম নামের তিন ব্যক্তি এই আন্তর্জাতিক চক্রের মূলহোতা। তাদের অধীনে রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত দালালদের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ক্যাম্পের চক্রও জড়িত রয়েছে। তাদের আমরা ধরতে কাজ করছি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ