মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের দুই প্রভাবশালী মন্ত্রী। লক্ষ্য বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান আগামী ২১ আগস্ট চার দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন। আর দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসবেন ২৩ আগস্ট। এ ছাড়া পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবও শিগগিরই ঢাকায় আসতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের দুই দিনের ঢাকা সফরের দিনক্ষণ আগেই নির্ধারিত ছিল। পরে গতকাল বুধবার (১৩ আগস্ট) পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে জানানো হয়, দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান ২১ থেকে ২৪ আগস্ট ঢাকা সফর করবেন।
সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে উভয় দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে সম্পর্ক জোরদার করতে উদ্যোগী হয় পাকিস্তান সরকার। তাদের এই আগ্রহে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারেরও সবুজ সংকেত রয়েছে। প্রায় দেড় দশকের শীতল সম্পর্কের পর তা পুনরুজ্জীবিত হচ্ছে। গত এপ্রিলে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রসচিব আমনা বালুচ। এখন ইসহাক দার ঢাকা সফরে আসছেন। সফরকালে তিনি সম্পর্ক পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি রাজনৈতিক স্তরে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।
এ ছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে দুই দেশের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) বৈঠকে অংশ নিতে মুহাম্মদ আওরঙ্গজেবের ঢাকায় আসার কথা। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন অর্থ উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমেদ। গত সরকারের সময় সর্বশেষ জেইসি বৈঠক হয় ২০০৫ সালে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হচ্ছে। সমঝোতাগুলো হলো দুই দেশের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির মধ্যে সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়। এ ছাড়া সহযোগিতা বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকের আলোচ্যসূচি নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

গত মাসে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি ঢাকায় আসেন। এ সময় দুই দেশের কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসা চুক্তি সইয়ের বিষয়ে অগ্রগতি হয় এবং এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া বিনিময় হয়। আগামী সপ্তাহে রাজনৈতিক স্তরে বিষয়টি অনুমোদন পেলে ইসহাক দারের সফরের সময় এই চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র জানায়, পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের আসন্ন ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য কীভাবে চাঙা করা যায়, সে বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের লক্ষ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জাম কামাল খানের সফরেই এই সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। বাণিজ্যবিষয়ক এই ওয়ার্কিং গ্রুপের নেতৃত্ব দেবেন দুই দেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দুই সচিব।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা নিয়মের বাইরে গিয়ে কিছু করছি না। অন্য অনেক দেশের মতোই আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছি। ব্যবসা ও বিনিয়োগের পাশাপাশি মানুষের চলাচল সুগম করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈরী সম্পর্কের প্রয়োজন নেই। অতীতে অকারণে পাকিস্তানের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। আমরা সেখান থেকে বের হয়ে এসেছি।’


















