ঢাকা, বুধবার, ৬ মে ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ন

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের পিএস-এপিএসরাও গড়ে তুলেছেন টাকার পাহাড়

গত ১৫ বছরে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) ও সহকারী ব্যক্তিগত সচিবরা (এপিএস) বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার কারণে এই পিএস-এপিএসরা রাতারাতি বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ির মালিক হন, নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক সহকারী জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানায় ৪০০ কোটি টাকার সম্পদের খবর নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেন। এছাড়া, পিএস-এপিএসরা বিভিন্ন টেন্ডার কারসাজি, কমিশন এবং চাকরিতে পদোন্নতি বা বদলির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আয় করেছেন।

হাসিনা সরকারের পতনের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু করে। বর্তমানে ২৫ জনেরও বেশি সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। পিএস-এপিএসরাও এই তদন্তের আওতায় রয়েছেন। কমপক্ষে ১০ জন সচিবকে তাদের সন্দেহজনক সম্পদ ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তদন্তাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক এপিএস হাফিজুর রহমান লিকু, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পিএস ড. হারুন অর রশিদ বিশ্বাস ও তার এপিএস মনির হোসেন, সাবেক শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মো. শাহাবুদ্দিন, এবং সাবেক নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রীর এপিএস এএনএম আহমদুল বাশারসহ আরো কয়েকজন।

সম্প্রতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাবেক এপিএস মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুদক। হাফিজুর রহমান লিকুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি স্ত্রীর নামে গোপালগঞ্জে জমি ও বিভিন্ন সম্পত্তি কিনেছেন। এছাড়া, উত্তরায় একটি সরকারি প্লট এবং মোহাম্মদপুরে একটি ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে যে হারুন অর রশিদ বিশ্বাস ও মনির হোসেন ঘুষ সিন্ডিকেটের মূল হোতা ছিলেন। বিভিন্ন প্রশাসনিক পদে নিয়োগের জন্য তারা ঘুষ গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ