ঢাকা, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

পাবনায় ডিজিটাল সেন্টারের ১০ম বর্ষ উদযাপন

নিজস্ব প্রতিনিধি: পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইউএনডিপির সহায়তায় পরিচালিত এটুআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারাদেশের মত বুধবার (১১ নভেম্বর ২০২০) বিকাল সাড়ে ৩ টায় আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের নিজস্ব কার্যালয়ে কেক কেটে ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শ্রী চন্দন কুমার চক্রবর্তী, আতাইকুলা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম বকুল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক মো: ওসমান গনি, আতাইকুলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্যগণ, বিভিন্ন ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা, উপজেলা ও ইউনিয়ন স্থানীয় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ’র নেতৃবৃন্দসহ এলাকার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক সামাজিক সংগঠনের ব্যাক্তিবর্গ।

পাবনা জেলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের এটুআই কর্তৃক এম্বাসেডর ও আতাইকুলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের প্রধান উদ্যোক্তা মো: শরিফুল ইসলাম খান’র পরিচালনায় আলোচনা সভায় শ্রী চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, স্থানীয় সরকারের সাথে আইসিটি বিভাগের নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে শহরের সেবা গ্রামে পৌঁছে দিয়ে জনগণের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শহর গ্রামের ব্যবধান কমে আসছে। এর মাধ্যমে দেশের সুষম ও টেকসই উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি ।

রফিকুল ইসলাম বকুল বলেন, ‘বাড়ছে সেবার বহর গ্রাম হবে শহর’ এই স্লোগানের উপর ভিত্তি করে সরকার সেবার বহর বৃদ্ধি করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সরকারের চূড়ান্ত লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে সরকারি দপ্তরের সেবাসমূহ পৌঁছে দেয়া, যেন জনগণকে এসব দপ্তরে সেবার জন্য ঘুরতে না হয়। সেটাই বাস্তবায়ন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার।

ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে দ্রুত, সহজে, স্বল্প খরচে যাতে নাগরিক সেবা পায় সেটাই বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা প্রশাসক’র নির্দেশনায়, উপজেলা প্রশাসনের তত্বাবধায়নে ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান’র সহযোগীতায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ এখন সহজেই বর্তমান সরকারের মহতী উদ্যোগ ডিজিটাল সেবা নিয়মিতভাবে কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই পেয়ে যাচ্ছে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে আমার ডিজিটাল সেন্টারেই আরো ৪/৫ জনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। দেশের সব সেক্টরেই যেন দ্রুত পরিপুর্ণ ডিজিটাল সেবা সবার মাঝে পৌছে যায় সেই আশা ব্যক্ত করেন ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের এই সফল উদ্যোক্তা।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিনা আক্তার রেইনা’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ডিজিটাল দেশ বিনির্মাণের জন্য ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, কারণ তারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের ডিজিটাল সেবা দিয়ে থাকেন, এবং সব শ্রেণি পেশার মানুষদের নিয়ে কাজ করে থাকেন । তিনি মনে করেন এই ১০ বছরে ডিজিটাল সেন্টার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে যে ভূমিকা রেখেছেন আগামী ১০ বছরে আরো বেশি ভূমিকা রাখবেন। সেই সাথে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠান শেষে দোয়া মাহফিলে মোনাজাত পরিচালনা করেন, পীরপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও পীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাওলানা আক্কাজ আলী।

আতাইকুলা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা এই ১০ বছরে নাগরিক সেবা সহজিকরনের স্বীকৃতিস্বরুপ ২০১২ সালে দেশ সেরা জাতীয় পুরষ্কারে ভূষিত হন। এ ছাড়াও পাবনা জেলার ৭ বার জেলার শ্রেষ্ঠ উদ্যোক্তা হিসেবে মনোনিত হন।

 

বিজনেসআইবাংলাদেশ/এইচআর

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ