ঢাকা, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন

এসি, গাড়ি, ফ্রিজসহ বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

প্রতি বছর নতুন বাজেট ঘোষণার পর বেশ কিছু পণ্যের দাম বাড়ে বা কমে। সরকার কিছু পণ্যে শুল্ক ও কর প্রত্যাহার করে। ফলে সাধারণত সেসব পণ্যের দাম কমতে দেখা যায়। আবার কিছু পণ্যে নতুন করে করারোপ করার ফলে বেশ কিছু পণ্যেরই দাম বেড়ে যায়। এবারও কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে। আর কিছু পণ্যের দাম কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট অর্থমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন। আগামী ৩০ জুলাই বাজেট পাস হতে পারে।

এবারের বাজেটে কিছু পণ্যে আয়কর, শুল্ক, ভ্যাট অথবা সম্পূরক শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ফলে সেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

আইসক্রিম, বেভারেজ, ইট, এলইডি বাল্ব, এনার্জি সেভিং বাল্ব, তামাকজাতীয় দ্রব্য, এসি, গাড়ি, ফ্রিজ ইত্যাদি পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিগারেটের উৎপাদন পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক ও মূল্যস্তর বাড়তে পারে। তিন স্তরের সিগারেটে সম্পূরক শুল্ক ৬৫.৫% প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে সব ধরনের সিগারেটের দাম বাড়তে পারে। প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার সর্বোচ্চ খুচরা দাম ৪৮ টাকা ও একই পরিমাণ গুলের মূল্য ২৫ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। যাদের পান-জর্দা খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের ব্যয় বাড়বে।

বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত পানির ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। দেশে উৎপাদন হওয়ায় পানির ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক ১০% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ে অনেকে বাসায় এলইডি বাল্ব ব্যবহার করেন। এলইডি বাল্ব এবং এনার্জি সেভিং বাল্ব উৎপাদনের উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ১০% বাড়ানো হতে পারে।

কাজুবাদাম চাষকে সুরক্ষা দেওয়ার অংশ হিসেবে খোসা ছাড়ানো কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করা হচ্ছে। ফলে আমদানি করা কাজুবাদামের দাম বাড়তে পারে। দেশে ফ্রিজ-এসি উৎপাদনে ব্যবহৃত কম্প্রেসার ও সব ধরনের উপকরণের ভ্যাট এবং শুল্ক বাড়ানো হচ্ছে। তাই এসি ও ফ্রিজের দাম বাড়তে পারে। এলআরপিসি তার আমদানিতে শুল্ক বাড়ানো হতে পারে। ফলে নির্মাণ খাতে খরচ বাড়বে।

গাড়ি সিএনজি-এলপিজিতে কনভার্সনে ব্যবহৃত কিট, সিলিন্ডার ও অন্য যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক ৩% থেকে বাড়িয়ে ৫% করা হচ্ছে। গাড়ি কনভার্সন খরচ বাড়তে পারে। আবার লোডশেডিং মোকাবিলায় বাসাবাড়ি বা শিল্পে জেনারেটরের ব্যবহার বাড়ছে। সেখানেও নজর দিয়েছে এনবিআর। জেনারেটর সংযোজন ও উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণ বা যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১% শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। দেশের বাজারে জেনারেটরের দাম বাড়তে পারে। বিদেশ থেকে আমদানি করা ম্যাকরেল মাছ আমদানিতে ১৫% ভ্যাট ও ৫% অগ্রিম আয়কর যোগ করায় দাম বাড়তে পারে।

শিল্পে ব্যবহৃত ৩৩টি আইটেমের কাঁচামাল আমদানিতে ১% শুল্ক বসানো হচ্ছে। তালিকায় আছে অপরিশোধিত ভোজ্যতেল, শিরিষ কাগজ উৎপাদনে ব্যবহৃত টিউব লিসেনিং জেল, কৃত্রিম কোরান্ডাম, অ্যালুমিনিয়াম অক্সাইড, প্যাট চিপস উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথাইলিন গ্লাইকল, পানির মোটর উৎপাদনকারী অ্যালুমিনিয়াম ইনগট, ফ্লোরোসেন্ট বাতির যন্ত্রাংশ, কাচ, প্লাস্টিক, এলইডি টেলিভিশন উৎপাদনে ব্যবহৃত এলইডি বাল্ব, বাতি উৎপাদনে ব্যবহৃত অ্যালুমিনিয়াম অ্যালয় প্রভৃতির দাম বাড়তে পারে।

অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মূলধনী যন্ত্রাংশ ও নির্মাণসামগ্রী আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা প্রত্যাহার করে ১% শুল্ক বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নে ডেভেলপারের আনা ব্যবহৃত সামগ্রীতে ১% শুল্ক আরোপ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানের শুল্কমুক্ত সুবিধায় গাড়ি আমদানির সুযোগ বাতিল করা হচ্ছে। ফলে অর্থনৈতিক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানকে শুল্ক ছাড়া অন্য শুল্ক-কর (ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক) পরিশোধ করতে হবে।

ট্যুর অপারেটর সেবার ওপর বিদ্যমান মূসক অব্যাহতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, থিম পার্কে মূসক ৭.৫%-এর পরিবর্তে ১৫% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে বাড়তে পারে ঘোরাঘুরির খরচ। নিলামকারী সংস্থা, সিকিউরিটি সার্ভিস ও লটারির টিকিটে মূসক ১০%-এর পরিবর্তে ১৫% করা প্রস্তাব করা হতে পারে। ইটের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট কর ১০ থেকে ২০% করার প্রস্তাব করা হতে পারে। ফলে বাড়বে নির্মাণ খরচ। আইসক্রিম ও কার্বোনেটেড বেভারেজের ওপর ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হতে পারে। ফলে আইসক্রিম ও কোমলপানীয়ের দাম বাড়বে।

মোবাইল ফোনের সিম ব্যবহারে দেওয়া সেবার বিপরীতে সম্পূরক শুল্ক ৫% বাড়িয়ে ২০% করা হতে পারে। এতে মোবাইলে কথা বলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের খরচ বাড়তে পারে। ই-সিম সরবরাহের ক্ষেত্রে মূসক ২০০ টাকার বিপরীতে ৩০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

কিছু শর্ত প্রতিপালনসাপেক্ষে রেফারেল বা বিশেষায়িত হাসপাতাল শুল্কছাড় সুবিধায় ১% শুল্কে মেডিকেল যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির সুযোগ রয়েছে। বাজেটে ২০০টিরও বেশি মেডিকেল যন্ত্র ও সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে তা বাড়িয়ে ১০% করা হতে পারে। ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

বাজেট ২০২৪-২৫

‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’প্রতিপাদ্যে ২০২৪-২৫ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা। বাকি দুই লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকবে। দুই লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ইতোমধ্যে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে কথা বলেন। এগুলোর জন্য তিনি দায়ী করেন কোভিড-পরবর্তী ‘রাশিয়া-ইউক্রেন’ যুদ্ধকে। একইসঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা, যা গত অর্থবছর ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক ঘাটতি ধরা হয় ২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ