পাকিস্তানকে উড়িয়ে ভারতের টানা তৃতীয় জয়। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের লড়াইটা হলো একপেশে। ১১৭ বল আর ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় ভারত।
আজ শনিবার (১৪ অক্টোবর) আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টসে জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাবর আজমের ৫০ ও মোহাম্মদ রিজওয়ান করেন ৪৯ রানের পরও ৪২.৫ ওভারে মাত্র ১৯১ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। জবাবে সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রোহিত শর্মার ঝড়ো ইনিংসের পর শ্রেয়াস আইয়ারের অপরাজিত ফিফটিতে ১১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের জয় তুলে নিলো ম্যান ইন ব্লুজরা। এতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে বিশ্বকাপের মঞ্চে ৭ বারের দেখায় শতভাগ জয়ের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল তারা।
এর আগে, ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিলেন পাকিস্তানের দুই উদ্বোধনী ব্যাটার ইমাম-উল-হক ও আব্দুল্লাহ শফিক। তবে ইনিংসের অষ্টম ওভারে মোহাম্মদ সিরাজের বলে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন আব্দুল্লাহ শফিক। ২৪ বলে তিন চারে ২০ রানে ফিরেছেন তিনি।
এরপর ইমামকে নিয়ে রানের চাকা সচল রাখার দায়িত্ব নেন অধিনায়ক বাবর আজম। কিন্তু ভারতের চেপে ধরা বোলিংয়ে উইকেটে টিকে থাকতেই বেশি মরিয়া থাকতে হয় তাদের। ফলে পাওয়ার প্লের প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ৪৮ রান। তবে দলীয় ৭৩ রানের মাথায় ব্রেক থ্রু আসে হার্দিক পান্ডিয়ার হাত ধরে। ইমামকে তিনি মাঠছাড়া করেন ৩৮ বলে ৩৬ রানে।
এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার মিশনে নামেন বাবর। দুইজন মিলে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলকে টেনে নিয়ে যেতে থাকেন। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারে ভর করে বড় সংগ্রহের পথেই এগোচ্ছিল তারা। তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম দুই ম্যাচের রানখরা কাটিয়ে ৫৭ বলে ফিফটি ফিফটি করেই সিরাজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান বাবর।

বাবরের বিদায়ের পরেই তাসের মতো ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৫৫ রানের মাথায় তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে বাবরের বিদায়ের পর ১৭১ রানের মধ্যেই ৭ উইকেট হারায় তারা। এক ওভারেই জোড়া উইকেট শিকার করেন চায়নাম্যান স্পিনার কুলদ্বীপ যাদব। সৌদ শাকিলকে ৬ রানে এলবিডব্লিউতে ফেরানোর পর নতুন ব্যাটার ইফতিখার আহমেদ ফেরেন ব্যক্তিগত ৪ রানে।
তবে একপ্রান্তে রিজওয়ান দাঁড়িয়ে থাকায় কিছুটা আশায় ছিলো পাকিস্তান। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে জয়ের নায়ক রিজওয়ান এদিনও ফিফটির দ্বারপ্রান্তে ছিলেন। কিন্তু এক রান বাকি থাকতেই বুমরাহর বলে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ফলে ৬৯ বলে ৭ বাউন্ডারিতে ৪৯ রানেই থামে তার ইনিংস। এরপর দলের সহ-অধিনায়ক শাদাব খানকেও নিজের শিকার করেন বুমরাহ। বিদায়ের আগে তিনি করেন মাত্র ২ রান।


















