সরকারি কাজকর্মে সব ধরনের অ্যাপল ডিভাইসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে রুশ সরকার। চাইলে অ্যাপল ডিভাইস ব্যবহার করা যাবে, তবে শুধু ব্যক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে। সেই ডিভাইস থেকে অফিসের কোনো কাজকর্ম করা যাবে না। রাশিয়ার ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস জানিয়েছে, আইফোনকে আর নিরাপদ বলে মনে করা হচ্ছে না।
সোমবার (১৭ জুলাই) থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নিষেধাজ্ঞা। যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচরবৃত্তি রুখে দিতে রুশ টেলিযোগাযোগ ও গণমাধ্যম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থাও দ্রুত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে পারে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে সব ধরনের অ্যাপল পণ্য। তবে, ডিভাইসে সরকারি কাজ করা যাবে না এমন শর্তে ব্যক্তিগত প্রয়োজন হিসেবে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন।
এই প্রসঙ্গে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট অ্যাপলের মন্তব্য জানতে চাইলে অ্যাপল কোনো সাড়া দেয়নি।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই রাশিয়া থেকে ‘অ্যাপল পে’ পরিষেবায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে অ্যাপল। পরবর্তীতে দেশটিতে নিজেদের সকল পণ্য বিক্রিও বন্ধ করে মার্কিন এই টেক জায়ান্ট।

জুনের শুরুতে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফেডারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (এফএসবি)’ দাবি করে, তারা বিভিন্ন অ্যাপল ডিভাইসের মাধ্যমে ‘মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গুপ্তচরবৃত্তির কার্যক্রম’ ফাঁস করেছে। এর পরপরই নিষেধাজ্ঞাটি এসেছে। এফএসবি বলেছে, ন্যাটো সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক আলাপ চালানো ফোনসহ হাজার হাজার আইফোন একটি মনিটরিং সফটওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে।
পরবর্তীতে সংস্থাটি কোনো ‘প্রমাণ না দেখিয়েই’ দাবি করে, ‘বিভিন্ন ধরনের নিয়ন্ত্রণ সুবিধা’ দেওয়ার লক্ষ্যে মার্কিন গুপ্তচরদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে অ্যাপল।
এই অভিযোগ নাকচ করে মার্কিন এই টেক জায়ান্ট বলেছে, “অ্যাপল পণ্যে ব্যাকডোর তৈরির লক্ষ্যে তারা কখনওই কোনো সরকারি সংস্থার সঙ্গে কাজ করেনি। আর ভবিষ্যতে কখনো করবেও না।”
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশে তৈরি প্রযুক্তির ওপর থেকে রাশিয়া সরকারের নির্ভরতা কমিয়ে আনার ইঙ্গিত মেলে।
২০২৫ সাল নাগাদ রাশিয়ার ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোগুলো’ যেন স্থানীয়ভাবে তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করে, সেই লক্ষ্যে গত বছর একটি ফরমানে সই করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।


















