ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে কঠোর নির্দেশনা

এখন থেকে ইসলামী পাঁচ ব্যাংককে ১০ কোটি বা তার বেশি টাকার ঋণ বিতরণ ও আদায়ের তথ্য দৈনিক ভিত্তিতে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে।

ঋণ বিতরণ ও আদায়ের তথ্য চেয়ে গত বুধবার (৭ ডিসেম্বর) ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, এসআইবিএল, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এই পাঁচটি ব্যাংকে চিঠি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চিঠির সাথে ছকে দৈনিক ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য দিতে বলা হয়েছে। সেখানে ইতিমধ্যে অনুমোদন করা ১০ থেকে ২০ কোটি টাকা, ২০ কোটির বেশি থেকে ৫০ কোটি, ৫০ কোটির বেশি থেকে ১০০ কোটি, ১০০ কোটির বেশি থেকে ৫০০ কোটি এবং ৫০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের বিতরণ ও আদায়ের তথ্য দিতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগের ধরন তথা মেয়াদি, চলতি বা তলবি কি না জানাতে হবে। আর অনুমোদিত সীমা, বিতরণ, আদায় ও স্থিতি জানাতে হবে।

আর ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি অংকের ঋণ অনুমোদনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক দুটির ৫ কোটি টাকার বেশি অংকের ঋণ বিতরণের আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে এরই মধ্যে দুটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পাঁচটি ব্যাংকের ঋণ বিতরণ ও আদায়ের তথ্য দৈনিক ভিত্তিতে চাওয়া হয়েছে।

কঠোর তদারকির আওতায় ইসলামী ধারার এসব ব্যাংকের ঋণ বিতরণে বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পর্যবেক্ষক বসিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ব্যাংকে নিয়োগ করা পর্যবেক্ষক ও তদারকির সাথে যুক্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে এক বৈঠকে অনিয়মের বিষয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। এসব ব্যাংকে ঋণের নামে কী ঘটেছে, বেনামি সন্দেহ করা ঋণের আসল সুবিধাভোগী কারা, তা উদ্ঘাটন করতে বলা হয়েছে।

এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সাম্প্রতিক দেওয়া বিভিন্ন নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন হচ্ছে কিনা তা দেখার জন্য শিগগিরই ব্যাংকগুলোতে সরজমিন গিয়ে পরিদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

একটি ইসলামী ব্যাংকের এমডি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের ৫০ কোটি টাকা বা তার বেশি মূল্যের কোনো ঋণ বিতরণ না করতে বলেছে। তবে, আমরা যথাযথভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা পালন করবো। এই ৫ ব্যাংকের পরিচালনা বোর্ডই চট্টগ্রামভিত্তিক ব্যবসায়ী গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন। ঋণ প্রদানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকগুলোর ওপর গ্রাহকদের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। এরপরই কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এমন কঠোর নির্দেশনা এলো। নগদ সংকটে পড়ায় এই ৫ ইসলামী ব্যাংক তারল্য সহায়তার অংশ হিসেবে গত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এর পরদিন আরও ১ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

তিনি আরো বলেন, চলতি বছর ইসলামী ব্যাংক নিয়ম লঙ্ঘন করে ৯ কোম্পানিকে ৭ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ৪ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও এফএসআইবিএলের ঋণ কেলেঙ্কারি তদন্ত করতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ