হারিকেন ‘ফিওনা’ স্থানীয় সময় রোববার ক্যাটাগরি ওয়ান ঝড় হিসাবে মার্কিন দ্বীপ অঞ্চল পুয়ের্তো রিকোতে ল্যান্ডফল করেছে, বিপর্যয় বন্যা আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হারিকেনটির প্রভাবে মার্কিন দ্বীপটিতে সমস্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইতোমধ্যে দ্বীপটির জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন, কর্তৃপক্ষকে দুর্যোগ ত্রাণ সরবরাহ করার অনুমতি দিয়েছেন।
ইউএস ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার টুইটারে বলেছে, হারিকেনটি পুয়ের্তো রিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের পুন্টা টোকনের কাছে আঘাত হানে। যার গতিবেগ ছিলো সর্বোচ্চ ৮৬ মাইল (১৪০ কিমি.)।
ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টার পূর্বাভাস দিয়েছে, বৃষ্টিপাতের ফলে ভূমিধস এবং ভারী বন্যা হতে পারে। সংস্থাটি এর আগে বলেছিল, হারিকেনটি পুয়ের্তো রিকোর পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূল এবং ভিয়েকস এবং কুলেব্রা দ্বীপপুঞ্জ বরাবর সাধারণত শুষ্ক ভূমির উপরে এক থেকে তিন ফুট বন্যা সৃষ্টি করতে পারে।
দ্বীপের গ্রিডের অপারেটর লুমা এনার্জি অনুসারে, দ্বীপে বসবাসকারী ৩৩ লাখ মানুষ সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুতবিহীন অবস্থায় রয়েছেন। যদিও কর্মকর্তারা বলেছেন যে দ্বীপের কিছু শক্তি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, বাকিগুলি আবার সংযোগ করতে কয়েক দিন সময় লাগবে।
দ্বীপটির স্বাস্থ্য সচিব বলেছেন, জেনারেটরে মাধ্যমে কিছু স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে সান জুয়ানের মেডিকেল হাসপাতাল কমপ্লেক্সে বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।

পুয়ের্তো রিকোর গভর্নর বলেছেন, বন্দরগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং দ্বীপের প্রধান বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটগুলি বাতিল করা হয়েছে। সোমবার স্কুল এবং সরকারী সংস্থাগুলি বন্ধ থাকবে। পেড্রো পিয়েরলুইসি বাসিন্দাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও বেশ কয়েকটি রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে এবং দ্বীপের মধ্য পার্বত্য অঞ্চলের উতুয়াডোতে একটি হাইওয়ে ব্রিজ বন্যায় ভেসে গেছে। এদিকে ফরাসি দ্বীপ গুয়াদেলুপে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।
এদিকে হারিকেন ফিওনা উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে ডোমিনিকান রিপাবলিকের জন্যও প্রবল বৃষ্টিপাত এবং ভূমি ধসের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তুর্কস এবং কাইকোস দ্বীপপুঞ্জও প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
হারিকেন ফিওনা পুয়ের্তো রিকোতে আঘাত হেনেছে হারিকেন মারিয়ার মাত্র পাঁচ বছর পর, যা দ্বীপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি, আল-জাজিরা


















