ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ন

আশুলিয়ায় পুলিশ-শ্রমিক ব্যাপক সংঘর্ষ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই তৈরি পোশাক কারখানার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা ইটপাটকেল ছুড়ে তীব্র প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালালে পুরো শিল্পাঞ্চল কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং সাধারণ মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর জামগড়া, নরসিংহপুর ও নিশ্চিন্তপুর এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় হা-মীম গ্রুপসহ আশপাশের আরও কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরাও সেখানে এসে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন।

একপর্যায়ে হাজারো বিক্ষুব্ধ শ্রমিক একজোট হয়ে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়ক অবরোধ করেন এবং ওই এলাকায় চলমান এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের বিভিন্ন প্লাস্টিকজাতীয় সামগ্রীতে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।

সড়ক অবরোধের কারণে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে পুলিশ তাঁদের সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধাওয়া দিলে শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে চারদিক থেকে বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বাধ্য হয়ে উপর্যুপরি টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার কারণে ওই এলাকায় সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব বলেন, “সকাল থেকেই শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি।”

যেকোনো ধরনের বড় নাশকতা, ভাঙচুর ও সহিংসতা এড়াতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত শিল্প পুলিশ, থানা-পুলিশ, র‍্যাব ও যৌথ বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নরসিংহপুর এলাকাসহ সংবেদনশীল পয়েন্টগুলোতে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের একাধিক জলকামান ও সাঁজোয়া যান সর্বক্ষণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও আশুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে লাগাতার বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে আসছেন পোশাকশ্রমিকরা।

সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা দেওয়া হলেও শ্রমিকদের রাজপথের এই বিক্ষোভ থামেনি। চলমান এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও কারখানায় ভাঙচুরের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের অনেক পোশাক কারখানায় ইতিমধ্যে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ।

আজকের এই ব্যাপক সংঘর্ষ ও অবরোধের কারণে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কসহ আশপাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সংযোগ সড়কগুলোতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ