পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হওয়ায় ভৌগোলিক ও কৌশলগত কারণে ইসলামাবাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তবে পাকিস্তান কিংবা অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কারণে ভারতের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি টিভি১৮-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। দেশটি পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি।’
তিনি বলেন, ভারত যেমন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রকেও পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। পররাষ্ট্রনীতিতে এসব সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা কঠিন হলেও তা প্রয়োজনীয়।
একই দিন প্রকাশিত দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, ‘পাকিস্তান বা বিশ্বের অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনোই ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষতির বিনিময়ে গড়ে উঠবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগের মধ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে রুবিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ১৯৭০-এর দশকের মতো পাকিস্তানপন্থি অবস্থান ফিরে আসছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ওই সময়ের তুলনা চলে না। তখন স্নায়ুযুদ্ধসহ ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ছিল, যা এখন আর নেই।
১৯৬৯ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের আমলে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতি ঝুঁকে ছিল। বিশেষ করে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করেছিল।
রুবিও বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে তিন দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার মুম্বাই পৌঁছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন রুবিও। বৈঠকে বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে রুবিও জানান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। মাত্র কয়েকটি বিষয়ে সমঝোতা বাকি রয়েছে।
পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্য বাড়ানো এবং মার্কিন প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কেনার পরিমাণ বৃদ্ধির আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়েও তাঁদের আলোচনা হয়েছে।
পাঁচ মাসের কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার ভারত সফরে আসা রুবিওর বুধবার গুজরাটের জামনগর সফরের কথা রয়েছে। সেখানে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। জামনগরে রিলায়েন্স পরিচালিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল শোধনাগার অবস্থিত।


















