নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে একই পরিবারের তিন বিনিয়োগকারীকে মোট ৭৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একাধিক বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ব্যবহার করে কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে শেয়ারটির দর বাড়ানোর অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জরিমানার আওতায় পড়েছেন আবু তাহের শিকদার, তাঁর স্ত্রী উম্মা সালমা নিপা এবং স্ত্রীর ভাই এস এম শাহেদ শাকিল।
গত ৫ অক্টোবর জারি করা আদেশ অনুযায়ী, আবু তাহের শিকদারকে ৫৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা, উম্মা সালমা নিপাকে ৫ লাখ টাকা এবং এস এম শাহেদ শাকিলকে ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
এ ছাড়া কৃত্রিম লেনদেন সৃষ্টির জন্য প্রত্যেককে আরও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএসইসির তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২৮ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন বিও হিসাব ও একাধিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ট্রাস্ট ইসলামী লাইফের শেয়ার কেনাবেচা করেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা। এ সময়ে শেয়ারটির দর ২৯ মে-র ৩৬ টাকা থেকে বেড়ে ২৮ আগস্ট ৮৩ টাকা ২০ পয়সায় দাঁড়ায়। অর্থাৎ প্রায় তিন মাসে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় ১৩১ শতাংশের বেশি।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, একই পরিবারের সদস্যদের একাধিক হিসাবের মধ্যে সমন্বিত লেনদেনের মাধ্যমে বাজারে শেয়ারটির চাহিদা ও লেনদেনের সক্রিয়তা সম্পর্কে কৃত্রিম ধারণা তৈরির ঘটনা শনাক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর মধ্যে ৪৬টি লেনদেন দিবসে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ২৭০টি শেয়ার কেনাবেচার তথ্যও তদন্তে উঠে আসে।
তবে শুনানিতে অভিযুক্ত বিনিয়োগকারীরা কারসাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, কোম্পানির ব্যবসায়িক সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির কথা বিবেচনা করেই তাঁরা বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু বিএসইসি তাঁদের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেনি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমিশন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেয়।


















