জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা একটি অভিযোগও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। মোট ছয়টি অভিযোগ ছিল, কিন্তু ছয়টি অভিযোগই সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং আমাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য ছিল। আমাকে চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়ে এখন তারা অমেধাবীদের সুযোগ করে দিতে চাচ্ছে।’
জানা যায়, অধ্যাপক জিনাত হুদা আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অধ্যাপক জিনাত হুদা এর আগে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

চব্বিশের আন্দোলনের পর তাকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে, ২০২৫ সালের মার্চে জিনাত হুদার বিচারের দাবি জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল বিবৃতি দিয়েছিল।
বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ছাত্র-জনতাকে নিয়ে বিষোদ্গার, নেতিবাচক মন্তব্য, গণ–অভ্যুত্থানের বিরোধিতা ও শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধি হয়ে গণভবনে উপস্থিত হয়ে শেখ হাসিনার গণহত্যাকে সমর্থন দেওয়ায় জিনাত হুদাকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’


















