নিজস্ব প্রতিবেদক
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আপত্তি ও পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন নিরীক্ষক।
স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টার না থাকা, চলতি ও স্থগিত করের প্রয়োজনীয় সংস্থান না করা এবং পুঁজিবাজারে থাকা বিনিয়োগের ন্যায্য মূল্যায়ন না করার বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পুরোনো একটি অগ্রিম অর্থের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ঘাটতির বিষয়ও রয়েছে।
নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সানলাইফের ১২ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ ফিক্সড অ্যাসেট রেজিস্টার পাওয়া যায়নি। ফলে এসব সম্পদের অস্তিত্ব, অবস্থান, মূল্যায়ন ও হিসাবের যথার্থতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, আয়কর আইন ২০২৩ এবং IAS 12 অনুযায়ী চলতি ও স্থগিত করের জন্য প্রয়োজনীয় সংস্থান করা হয়নি বলে নিরীক্ষক উল্লেখ করেছেন। আর্থিক বিবরণীতে করসংক্রান্ত হিসাব যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কি না, এ বিষয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া সানলাইফের ১৬ কোটি ৯০ লাখ ৫১ হাজার টাকার পুঁজিবাজার বিনিয়োগ IFRS 9 ও IFRS 13 অনুযায়ী ন্যায্য মূল্যে মূল্যায়ন করা হয়নি বলে নিরীক্ষকের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীতে পুঁজিবাজার বিনিয়োগের প্রকৃত মূল্য কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্নের অবকাশ রয়েছে।

বিডি থাই ফুডের অগ্রিম নিয়েও প্রশ্ন
সানলাইফের পুরোনো হিসাবের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে দেওয়া ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকার অগ্রিম।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, বিডি থাই ফুডের শেয়ার কেনার জন্য সানলাইফ ১২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা পেয়েছিল। এর বিপরীতে ১১ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যু করা হয়। তবে হিসাবের মধ্যে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অগ্রিম হিসেবে থেকে যায়। পর্যালোচনায় এ অর্থের পক্ষে বৈধ ভাউচার ও প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ঘাটতির বিষয়ও উঠে এসেছে। ফলে অগ্রিম হিসেবে থাকা অর্থের প্রকৃতি, সমন্বয় এবং এর বিপরীতে যথাযথ নথিপত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও আর্থিক প্রতিবেদনের স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়ে উঠেছে।
কমেছে উদ্যোক্তা–পরিচালকদের শেয়ারধারণ
এদিকে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে সানলাইফের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিত শেয়ারধারণেও পরিবর্তন এসেছে। এ সময়ে তাদের শেয়ারধারণ ৩৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশে নেমেছে। একই সময়ে গ্রিন ডেল্টা গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিডি অ্যাসিস্ট লিমিটেড সানলাইফে থাকা তাদের ৬ শতাংশ বা ২১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪৫টি শেয়ার বিক্রি করে পুরোপুরি বেরিয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিটিতে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারধারণ শূন্যে নেমেছে।
অন্যদিকে, একই সময়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারধারণ ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫ দশমিক ৮৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তবে জিডি অ্যাসিস্ট লিমিটেডের শেয়ার বিক্রি করে পুরোপুরি বেরিয়ে যাওয়ার পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর্থিক প্রতিবেদনের মান নিয়ে প্রশ্ন সব মিলিয়ে সানলাইফের ২০২৫ সালের আর্থিক বিবরণীতে নিরীক্ষকের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সামনে এসেছে—স্থায়ী সম্পদের পূর্ণাঙ্গ রেজিস্টারের ঘাটতি, চলতি ও স্থগিত করের প্রয়োজনীয় সংস্থান না করা এবং পুঁজিবাজার বিনিয়োগের ন্যায্য মূল্যায়ন না করা। এর সঙ্গে পুরোনো অগ্রিম অর্থের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ঘাটতি এবং ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ারধারণ কমে যাওয়ার বিষয়ও যুক্ত হয়েছে।


















