ঢাকা, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪:০২ অপরাহ্ন

ঢাবি শিক্ষকদের মূল্যায়নে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করলো ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য ‘duevaluation.com’ নামে একটি অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। তবে মূল্যায়নকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং মূল্যায়নের ফলাফল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে চালু হয়েছে এ প্ল্যাটফর্ম। তিনি জানান, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা ডাকসু নির্বাচনে তার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল।

জানা গেছে, ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে পরবর্তী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারবেন। মূল্যায়নে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। ই-মেইলে পাঠানো একটি কোড ব্যবহার করে সিস্টেমে প্রবেশ করা যাবে।

সিস্টেমে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা কেবল নিজেদের বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। মূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বেনামি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো শিক্ষার্থী কোনো শিক্ষককে কী মূল্যায়ন করেছেন, তা প্রকাশ করা হবে না। তবে মূল্যায়নের সামগ্রিক ফলাফল প্রকাশ্যে দেখা যাবে।

উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে অতীতেও বিভিন্ন নীতিমালা ও খসড়া তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি। ডাকসুর কার্যক্রম শুরুর পর বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করেছেন তিনি। তবে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি এখনো আটকে থাকায় নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে থেকে উদ্যোগ নেওয়ায় এ ব্যবস্থাকে কেন্দ্রীয়ভাবে বাধ্যতামূলক করার সুযোগ নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে। তবে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকদের মূল্যায়নের একটি প্রকাশ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

উদ্যোক্তা আরও জানান, এ উদ্যোগটি মূলত ‘রেইট মাই প্রফেসরস’ ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে অনুপ্রাণিত। তবে সেখানে নির্দিষ্ট কোর্স বা শিক্ষক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করাই মূল উদ্দেশ্য, এখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগগুলোর শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষকদের বিষয়ে সামগ্রিক ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তার দাবি, শিক্ষকদের মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ্যে থাকার কারণে এটি শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি ‘এক্সটার্নাল প্রেসার’ হিসেবেও কাজ করতে পারে।

উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়া বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হলে সেটিই সবচেয়ে কার্যকর হত। তবে প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রক্রিয়াটি এখনো বিভিন্ন সভা ও পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। এ কারণে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্তত একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর চেষ্টা করেছেন তিনি।

রাফিয়া জানিয়েছেন, ওয়েব অ্যাপ ব্যবহারের সময় কোনো শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়লে ডাকসুর নির্ধারিত ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

তবে শিক্ষক মূল্যায়নের এই ব্যবস্থা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত বা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কোনো উদ্যোগ নয়। ফলে এর মূল্যায়ন পদ্ধতি, ফলাফল যাচাই ও তথ্য ব্যবহারের কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থান জানা যায়নি।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ