পাকিস্তানের কোচ হিসেবে আবারও কাজ করার স্বপ্ন দেখেন। দেশের ক্রিকেটকে নতুন করে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জও নিতে প্রস্তুত। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অনিশ্চিত সিদ্ধান্ত ও কোচদের প্রতি আচরণ। তাই নিজের দেশের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভাবলেও কোথাও যেন একটা ভয় কাজ করে সাবেক পাকিস্তান লেগস্পিনার মুশতাক আহমেদের।
বর্তমানে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মুশতাক জানিয়েছেন, পিসিবিতে চাকরির নিরাপত্তাহীনতা এবং আবেগতাড়িত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তাকে উদ্বিগ্ন করে। বিশেষ করে চলমান ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফ ও খেলোয়াড়দের নিয়ে বোর্ডের নাটকীয় সিদ্ধান্ত তাকে আরও শঙ্কিত করেছে।
বিবিসির স্টাম্পড পডকাস্টে মুশতাক বলেছেন, ‘অবশ্যই আমি আবার দেশের জন্য কাজ করতে চাই। বিশেষ করে এই সময়ে।’
তবে এরপরই নিজের শঙ্কার কথাও অকপটে জানিয়েছেন তিনি,‘কখনও কখনও নিজের দেশের হয়ে কাজ করতেও ভয় লাগে, যখন দেখবেন মানুষ আপনাকে সম্মান করছে না এবং এদিক-ওদিকের কিছু আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের কারণে আপনাকে বরখাস্ত করে দেওয়া হচ্ছে।’
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে একের পর এক পরিবর্তনই মুশতাকের এই উদ্বেগের বড় কারণ। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে সাত খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠায় পিসিবি। একই সফরের মাঝে কোচ সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ টেস্টে দায়িত্ব দেওয়া হয় সাদা বলের কোচ মাইক হেসনকে।

মুশতাক এ নিয়ে বলেছেন, ‘একটি সফরের মাঝখানে মানুষকে বরখাস্ত হতে দেখলে আপনি স্বাভাবিকভাবেই চিন্তিত ও ভীত হয়ে পড়বেন।’
সরফরাজ আহমেদ ও উমর গুলকে সফর শেষ হওয়ার আগেই সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে কষ্ট দিয়েছে মুশতাককে। সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার হিসেবে তিনি মনে করেন, এমন সিদ্ধান্ত সিরিজ শেষ হওয়ার পর নেওয়া উচিত ছিল, ‘সরফরাজ ও উমর গুল খুবই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তারা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছে। সারফরাজ তো দলের অধিনায়কও ছিল।’
তিনি আরও বলেছেন,‘যদি তাদের সরাতেই চান, তাহলে অবশ্যই সফর শেষ হওয়ার পর সেটা করা উচিত। এই সময়ে শান্ত থাকা দরকার, তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।’
পাকিস্তান জাতীয় দলের সঙ্গে এর আগেও বিভিন্ন ভূমিকায় কাজ করেছেন মুশতাক। ২০১৪ সালে প্রথমবার বোলিং পরামর্শক হিসেবে দলের সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ২০১৬ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্বে থাকার পর ২০২০ সালে আবারও পাকিস্তান দলের স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে ফেরেন।


















