ঢাকা, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬, ২:২৬ অপরাহ্ন

এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের চরম সতর্কবার্তা

বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ, দাবানল, খরা ও বন্যার ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা এল নিনো আগামী কয়েক মাসে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর সঙ্গে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন যুক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)-এর সর্বশেষ মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডব্লিউএমও বলেছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের অস্বাভাবিক উষ্ণতা দ্রুত বাড়ছে এবং এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা, ভারী বৃষ্টিপাত ও আকস্মিক বন্যার মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
.
প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, “এল নিনো শুধু আমাদের দোরগোড়ায় নয়, এটি ইতোমধ্যেই আমাদের বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটি কেবল শুরু। এল নিনো আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং ইতোমধ্যেই দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।”

ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্য বিঘ্নিত করার পাশাপাশি পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা আরও বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

জাতিসংঘ বলছে, এল নিনোর প্রভাব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মিলিত হয়ে সংকটকে আরও তীব্র করছে। এ কারণে দেশগুলোকে জলবায়ু মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গুতেরেস। তিনি নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাসভিত্তিক প্রকল্প বন্ধ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর ওপর জোর দেন

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বিশ্বের অধিকাংশ স্থলভাগেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায়।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, আগাম সতর্কবার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলো তা বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করবে। তাঁর ভাষায়, “পূর্বাভাস নিজে থেকে বিপদ ঠেকাতে পারে না; মানুষের সিদ্ধান্তই ভবিষ্যতের প্রভাব নির্ধারণ করবে।”

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো আরও শক্তিশালী হয়ে রেকর্ডমাত্রার তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট মাত্রা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ