কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ‘আকবরনগর’ বাজারের নামকরণ নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের মিরারচর ও আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মাসুদ মিয়া মিরারচর গ্রামের আসাদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক ছিলেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে দুপুর ১টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল। এ ঘটনায় ভৈরব ও কুলিয়ারচর রেলস্টেশনে দুটি ট্রেন প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গ্রামবাসী রেললাইন অবরোধ করে রাখেন। ভৈরবে ঢাকা-কিশোরগঞ্জগামী ‘এগারসিন্ধু’ এবং কুলিয়ারচর স্টেশনে ময়মনসিংহ-চট্টগ্রামগামী ‘বিজয় এক্সপ্রেস’ ট্রেন আটকা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত আকবরনগর বাজারের নামকরণ নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের দুটি গ্রামের বাসিন্দাই বাজারটির নাম নিজেদের গ্রামের নামে করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগে সালিসের মাধ্যমে বাজারটির নাম ‘আকবরনগর-মিরারচর’ রাখা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি আকবরনগর গ্রামের বাসিন্দারা বাজারের নাম শুধু ‘আকবরনগর’ করার দাবি জানান। অন্যদিকে, মিরারচর গ্রামের বাসিন্দারা ‘আকবরনগর-মিরারচর’ নামে বাজারটির নামকরণের দাবি করে আসছিলেন।

এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে দুই গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই জেরে সোমবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে মিরারচর গ্রামের মাসুদ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয় পক্ষের প্রায় অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ভৈরব থানার ওসি লিমন বোস বলেন, বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের সংঘর্ষে মাসুদ মিয়া নামে একজন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে।


















