দেশের পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, গতিশীল ও কার্যকর করতে একগুচ্ছ কর প্রণোদনা ও নীতিগত সুবিধার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি কোম্পানি ও ব্যক্তি করদাতাদের লভ্যাংশের ওপর করের হার কমানোর প্রস্তাবের পাশাপাশি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বিদ্যমান বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব ঘোষণা দেন। এ সময় তিনি পুঁজিবাজারের টেকসই উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহে উৎসাহ দিতে অর্থ বিলে একাধিক সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
জিরো কুপন বন্ডের আয় হবে সম্পূর্ণ করমুক্ত
সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, জিরো কুপন বন্ডের আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি শেয়ারবাজারে নতুন কোম্পানির তালিকাভুক্তি বাড়াতে উল্লেখযোগ্য কর ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য বাড়তি কর ছাড়

প্রস্তাব অনুযায়ী, যেকোনো পরিমাণ শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি আড়াই শতাংশ কর হ্রাসের সুবিধা পাবে।
এছাড়া আইপিও , ডিরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু অথবা রিপিট পাবলিক অফার-এর মাধ্যমে কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জে কেনাবেচার জন্য অফলোড করলে আরও আড়াই শতাংশ কর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেনে অতিরিক্ত কর সুবিধা
ডিজিটাল ও স্বচ্ছ আর্থিক লেনদেনকে উৎসাহিত করতে অর্থমন্ত্রী জানান, তালিকাভুক্ত বা অ-তালিকাভুক্ত—যেকোনো কোম্পানি যদি তাদের সব ধরনের লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করে, তাহলে তারা অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ কর সুবিধা পাবে।
এর ফলে যেসব তালিকাভুক্ত কোম্পানি ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন সম্পন্ন করবে এবং শেয়ারবাজারে ১০ শতাংশ বা তার বেশি শেয়ার অফলোড করবে, তাদের করহার অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির তুলনায় সাড়ে সাত শতাংশ কম হবে।
ডিভিডেন্ডের ওপর কর কমানোর প্রস্তাব
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকে আরও আকর্ষণীয় করতে কোম্পানি করদাতাদের ডিভিডেন্ডের আয়ের ওপর করের হার ২০ শতাংশ এবং ব্যক্তি করদাতাদের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।
মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগসীমা প্রত্যাহারের প্রস্তাব
এছাড়া মিউচ্যুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত পাওয়ার জন্য বর্তমানে বিদ্যমান ৫ লাখ টাকার বিনিয়োগসীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাবও করা হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সীমাহীন বিনিয়োগের সুযোগের পাশাপাশি কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভালো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতেই এ উদ্যোগ
অর্থমন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান নিশ্চিত করতে ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে আসতে উৎসাহিত করাই সরকারের লক্ষ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ঘোষিত কর প্রণোদনাগুলো নতুন কোম্পানিকে বাজারে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত করবে এবং শেয়ারবাজারের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিনিয়োগকারীদের আস্থা ইতোমধ্যে বাজারে ফিরতে শুরু করেছে, যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারের সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি পুঁজিবাজারে চলমান সংস্কার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

















