ঢাকা, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ন

ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইজ (শেয়ার দরের সর্বনিম্ন সীমা) প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ ৬ বছর পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

আজ সোমবার (৮ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত বিএসইসির বিশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইজ প্রত্যাহার করেছে কমিশন। আজকেই এ-সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হবে। মঙ্গলবার থেকে ফ্লোর প্রাইজ ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেনে হবে।’

এ নির্দেশনার আগ পর্যন্ত সোমবার বেক্সিমকোর শেয়ারে ১১০ দশমিক ১০ এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ৩২ দশমিক ৬০ টাকা ফ্লোর প্রাইজ ছিল।

বিএসইসির মুখপাত্র ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে ফ্লোর প্রাইজ (সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) আরোপ করা কোনো আন্তর্জাতিক বা স্ট্যান্ডার্ড নিয়ম নয়। যেকোনো সিকিউরিটিজের দাম এবং কেনাবেচা সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা (ডিমান্ড) ও জোগানের (সাপ্লাই) ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত। কোনো নির্দিষ্ট শেয়ারে কৃত্রিমভাবে ফ্লোর প্রাইজ ধরে রাখা এই বাজারের স্বাভাবিক নিয়মের পরিপন্থী। তাই কমিশন বৈশ্বিক স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস অনুসরণের লক্ষ্যে ফ্লোর প্রাইজ তুলে দিয়েছে।

ফ্লোর প্রাইজের ধারণাটি মূলত প্রাইমারি অকশন বা আইপিওর সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন একটি কোম্পানি যখন বাজারে আসে, তখন সেটির আগের কোনো লেনদেনের ইতিহাস বা প্রাইজ ডেটা থাকে না। বিনিয়োগকারীরা যাতে একদম শূন্য থেকে শুরু না করেন, সেজন্য প্রাইমারি অকশনে একটি প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক।

তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে যেহেতু শেয়ারের নিয়মিত লেনদেন হয় এবং এর একটি নির্দিষ্ট বাজারমূল্য আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে। তাই এখানে ফ্লোর প্রাইজ রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।

তথ্য মতে, ফ্লোর প্রাইজ হলো শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা। এর নিচে শেয়ারের দাম নামতে পারবে না। করোনা মহামারির শুরুর পর শেয়ারদর যেন অস্বাভাবিকভাবে কমতে না পারে, এজন‍্য ফ্লোর প্রাইজ আরোপ করে কমিশন। করোনা মহামারীর সময়কালে বাজারে শেয়ারের অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ এ পদক্ষেপ নেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। পরে বিভিন্ন মেয়াদে কোম্পানির শেয়ারে ফ্লোর প্রাইজ প্রত্যাহার করা হয়।

সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চারটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইজ প্রত্যাহার করা হয়। কোম্পানিগুলো হলো— খুলনা পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম। তবে তখন ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ওপর আরোপ করা ফ্লোর প্রাইজ প্রত্যাহার করা হয়নি, যা সোমবারের বিশেষ কমিশন সভায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

 

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ