ঢাকা, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ন

সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন, প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড অ্যান্ড গ্রুপ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহার জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১৭ মে ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম আবু রায়হান।

জানাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেন এবং পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় জাতীয় সংসদের স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম), ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে শুক্রবার (১৫ মে) দিবাগত রাতে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিজানুর রহমান সিনহা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। তার মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, ব্যবসায়ী মহল এবং দেশের ওষুধ শিল্পে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মিজানুর রহমান সিনহার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে। তিনি নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরু ১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে হলেও ১৯৭৫ সালে তিনি পারিবারিক প্রতিষ্ঠান একমি গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি একমি ল্যাবরেটরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনীতিতেও ছিল তার বর্ণাঢ্য পথচলা। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলটির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপির মনোনয়নে মুন্সিগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) আসন থেকে ১৯৯৬ সালের সপ্তম এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি ৫৮ হাজার ৪৫৫ ভোট এবং ২০০১ সালে ৮৩ হাজার ৬২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মিজানুর রহমান সিনহার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ব্যবসায়ী সংগঠন এবং স্বাস্থ্য খাতের প্রতিনিধিরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই তাকে একজন দক্ষ সংগঠক, সফল শিল্প উদ্যোক্তা এবং জনবান্ধব রাজনীতিক হিসেবে স্মরণ করেছেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ