ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন

রাশিয়ার ওপর যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইউক্রেনে চলমান অবৈধ যুদ্ধে জনবল ও সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও এক দফা কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এবার রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের শৃঙ্খল ভেঙে দেওয়া এবং বিদেশি অভিবাসীদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত মানবপাচারকারী চক্রগুলোকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের নতুন এই পদক্ষেপের আওতায় ৩৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’ প্রোগ্রামের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশি অভিবাসীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীকালে তাদের হয় অস্ত্র কারখানায় কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে, নয়তো ‘কামানের খোরাক’ হিসেবে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে মিশর, ইরাক, নাইজেরিয়া ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ন্যূনতম প্রশিক্ষণে ভয়াবহ অবস্থায় যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে।

২০২৬ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রতিদিন গড়ে ২০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। এপ্রিল মাসেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এই হামলাগুলো বন্ধ করতে ড্রোন উৎপাদনকারী ও যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্য করেছে যুক্তরাজ্য। নিষেধাজ্ঞার তালিকায় পাভেল নিকিতিন নামে এক ব্যক্তি রয়েছেন, যার কোম্পানি রাশিয়ার বহুল ব্যবহৃত ও সাশ্রয়ী ‘ভিটি-৪০’ ড্রোন তৈরি করে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও চীনভিত্তিক বেশ কিছু কোম্পানিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে যারা রাশিয়াকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ করে আসছে।

নিষেধাজ্ঞা বিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, অসহায় মানুষদের শোষণ করে ইউক্রেনে রাশিয়ার এই অবৈধ যুদ্ধ টিকিয়ে রাখার চেষ্টা অত্যন্ত বর্বর। এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে পাচারকারীদের কার্যক্রম ব্যাহত করা হবে এবং পুতিনের ড্রোন কারখানায় অবৈধ সরঞ্জামের জোগান বন্ধ করা হবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে অটল থাকবে এবং রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে।

যুক্তরাজ্য তাদের ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ নামক নতুন নিষেধাজ্ঞা কাঠামোর আওতায় প্রথমবারের মতো এই পদক্ষেপ নিল। এটি বিশ্বের প্রথম কোনো ব্যবস্থা যা সরাসরি অবৈধ অভিবাসন এবং মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অপরাধীচক্রকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আধুনিক দাসত্ব, জোরপূর্বক শ্রম এবং মানবপাচার নির্মূলে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিটিশ সরকার।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ