ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ন

ঈদে আফগানিস্তানে হামলা স্থগিত করল পাকিস্তান

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামী পাঁচ দিনের জন্য আফগানিস্তানে সব ধরনের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান।

বুধবার (১৮ মার্চ) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতি আগামী সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত বজায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার।

তিনি জানান, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম ইসলামি দেশ’ সৌদি আরব, কাতার এবং তুরস্কের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তবে ইসলামাবাদ কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, এই সময়ের মধ্যে যদি কোনো ধরনের আন্তঃসীমান্ত ড্রোন হামলা বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়, তবে তারা পুনরায় পূর্ণ শক্তিতে সামরিক অভিযান শুরু করতে দ্বিধা করবে না।

পাকিস্তানের এই ঘোষণার পর আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাদের সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করার কথা জানিয়েছে। তালেবান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন।

দুই দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনার মাঝে এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনলেও সীমান্তে উভয় দেশের সেনাবাহিনী এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গত কয়েক দিনে পাল্টাপাল্টি হামলায় দুই দেশেরই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার কাবুলে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এক ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং ২৬৫ জন আহত হন। দুই হাজার শয্যার ওই নিরাময় কেন্দ্রটি হামলার সময় নামাজরত মানুষের ভিড়ে পূর্ণ ছিল। পাকিস্তান এই হামলার দায় সরাসরি অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা কেবল ‘সামরিক স্থাপনা ও সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে।

অন্যদিকে আফগান সরকার অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক এবং চিকিৎসা স্থাপনায় এই হামলা চালিয়েছে। বুধবার কাবুলে নিহতদের স্মরণে বিশাল জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অনেক পরিবারকে তাদের নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের মাঝে আহাজারি করতে দেখা গেছে।

আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি এই হামলার শিকার হওয়া নিরীহ মানুষের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের সরকার যুদ্ধ চায় না বরং কূটনৈতিক উপায়ে সমস্যার সমাধান খুঁজছে।

এদিকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বেসামরিক ও চিকিৎসা স্থাপনায় এমন হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উভয় পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ