ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ৪:৩৭ পূর্বাহ্ন

নতুন পাবলিক অফার রুলসের মাধ্যমে বাজারে ভালো মানের শেয়ার আসার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত: বিএসইসি চেয়ারম্যান

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের  (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ জানান, শেয়ারবাজারের আইনি ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫’, ‘মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা, ২০২৫’ এবং ‘পাবলিক অফার অব ইক্যুইটি সিকিউরিটিজ রুলস, ২০২৫’—এই তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়নের কাজ ২০২৫ সালের মধ্যেই সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে আইপিও-কে শেয়ারবাজারের ‘হৃৎপিণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, নতুন পাবলিক অফার রুলসের মাধ্যমে বাজারে ভালো মানের শেয়ার আসার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি’র মাল্টিপারপাস হলে বেলা ১০:৩০ ঘটিকায় বাজারে অংশীজনদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ৫ম মাসিক সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভার মূল আলোচনায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কর্তৃক গঠিত কমিটির সভাপতি এবং মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বাজারের বর্তমান প্রতিবন্ধকতাগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর বিশেষ জোর দেন।

তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, শেয়ারবাজারের চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে সব পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে। তিনি এ ধরণের নিয়মিত সমন্বয় সভাকে একটি কার্যকর মেকানিজম হিসেবে অভিহিত করে বলেন, অংশীজনদের মতামত ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করা গেলেই বাজারের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সমাপ্ত ২০২৫ বছরে সংস্কার কাজে সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি দ্রুততম সময়ে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্থির করার নির্দেশনা দেন।

তিনি বাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানকে এই আইনি কাঠামোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে বাজারের গভীরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি বাজার সংস্কারে প্রধান উপদেষ্টা ও অর্থ উপদেষ্টার ধারাবাহিক সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

সভায় শেয়ারবাজারের আধুনিকায়নে বেশ কিছু কারিগরি ও কৌশলগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল শেয়ারবাজারের উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ, বাজারে বৈচিত্র্য আনতে নতুন পণ্য বা ইনস্ট্রুমেন্ট প্রবর্তন এবং রোড শোর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ই-কেওয়াইসি এর মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাজার সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এপিআই কানেকটিভিটি বৃদ্ধির বিষয়ে সভায় ঐকমত্য পোষণ করা হয়। এছাড়া বহুল প্রতীক্ষিত কমোডিটি এক্সচেঞ্জ দ্রুত চালু করা, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল)-এর রেজিস্ট্রেশন ও অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু এবং মার্জার ও একুইজিশন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাজারের গভীরতা বৃদ্ধিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানি এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও আস্থা ফেরাতে প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর কাজের পরিধি আরও বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয় সভায়। বিশেষ করে বিনিয়োগ শিক্ষা প্রসারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করার নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টিতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে পাক্ষিক ভিত্তিতে বিনিয়োগ শিক্ষা বিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচারের উদ্যোগের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

সভায় বিএসইসি’র কমিশনার মুঃ মোহসিন চৌধুরী, মোঃ আলী আকবর, ফারজানা লালারুখ এবং মোঃ সাইফুদ্দিনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সিসিবিএল চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মোঃ ওয়াহিদ-উজ-জামান, ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম, আইসিবি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথ এবং সিডিবিএল-এর এমডি মো. আবদুল মোতালেবসহ চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ ও বিএমবিএ-এর শীর্ষ প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের সুচিন্তিত মতামত প্রদান করেন। সভার শেষে বিএসইসি চেয়ারম্যান শেয়ারবাজারের টেকসই সংস্কার ও উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বাজারের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ