নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন আজ। গল্পকার বা নির্মাতা হিসেবে তাঁকে সবাই এক নামে চিনলেও, অনেকেই হয়তো ভুলে যান তিনি দীর্ঘকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। এই দুই পেশার সংমিশ্রণই তাঁর সাহিত্যে এনেছিল এক স্বতন্ত্রতা। শিক্ষকতা থেকে কলম হাতে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন।
হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে বিএসসি (সম্মান) ও এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পলিমার রসায়নে পিএইচডি অর্জন করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগ দেন। শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি লেখালেখি চালিয়ে যান এবং জনপ্রিয় একজন লেখক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। শিক্ষক হলেও তিনি পূর্ণকালীন লেখক হওয়ার জন্য ১৯৯০ সালের মাঝামাঝি সময়ে অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। অনেকেই মনে করেন, তাঁর এই পেশা পরিবর্তন ছিল সময়ের দাবি।
হুমায়ূন আহমেদের গদ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো শব্দের স্বচ্ছতা ও সরলতা। তাঁর গল্পের বাক্যগুলো ছোট। তিনি মনের ভাব এমনভাবে প্রকাশ করতেন যেটা সচারচর দেখা যায় না। তার বাক্যের গাঁথুনি সব শ্রেণির পাঠকের মন জয় করেছিল। যা এখন মানুষের মুখে মুখে ফিরে। তাঁর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ, লেখাগুলো একাধারে কৌতূহলোদ্দীপক, যুক্তিনির্ভর এবং পাঠকের আবেগকে স্পর্শ করে। যার ফলে হুমায়ূন আহমেদ না থাকলে তার গল্প লেখার কল্পনা শক্তি বাঙালি পাঠকের কাছে চিরকালীন আবেদন সৃষ্টি করে গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সুবাদে দীর্ঘদিন জ্ঞান-বিজ্ঞানকে নেড়ে দেখা সুযোগ পেয়েছিলেন। যা তার লেখনীতে ফুটে ওঠে। হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সায়েন্স ফিকশন-এর অন্যতম পথিকৃৎ। বিজ্ঞানের শিক্ষক না হলে হয়তো এই ধারায় তাঁর অবাধ বিচরণ সম্ভব হতো না। তাঁর লেখায় প্রায়শই বাস্তব এবং অবিশ্বাস্য ঘটনার এক চমৎকার মিশ্রণ দেখা যায়। ‘দেবী’ উপন্যাসে রানুর অলৌকিক অনুভূতি, যা শেষ পর্যন্ত ফ্রয়েডের থিওরি বা সাইকিক প্রজেকশনের মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এই উপন্যাসে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, যুক্তি-তর্কের বাইরেও যে একটা রহস্যময় জগৎ আছে, তা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। এরজন্য প্রয়োজন কল্পনার বিস্তার।
প্রেম ভালোবাসা, বিরহ, ছোটগল্প কিংবা বিজ্ঞান ধারার গল্পের পাশাপাশি সমাজের কুসংস্কার নিয়েও লিখেছেন হুমায়ূন আহমেদ।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। আজ নন্দিত কথাসাহিত্যিকের ৭৮তম জন্মদিন উদযাপিত হচ্ছে। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬৩ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।


















