ঢাকা, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬, ৫:৪২ পূর্বাহ্ন

সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

নেপালে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ‘নেপো কিডস’ ইস্যুতে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে চলমান আন্দোলন দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছেন। একদিকে মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের পদত্যাগ, অন্যদিকে সহিংস বিক্ষোভে প্রাণহানি—এসব ঘটনা নেপালের রাজনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) নেপালে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির পদত্যাগের খবর প্রকাশিত হয়। কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে চলা দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন মূলত সরকারের প্রভাবশালী নেতাদের সন্তান-সন্ততিদের নিয়োগ ও সুবিধা গ্রহণের ইস্যুতে কেন্দ্রিত—যাকে ‘নেপো কিডস’ নামে ডাকা হচ্ছে। সরকার বিক্ষোভ দমন করতে ফেসবুক, ইউটিউবসহ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। তবে তা আরও ক্ষোভ উসকে দেয় এবং সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তিন মন্ত্রীর বাসভবনে আগুন ধরিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক। আন্দোলনের চাপেই তিনজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের আগে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। রাজধানী কাঠমান্ডুসহ সারা দেশে বিক্ষোভ চলাকালীন জনতা বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতার বাসভবন ও রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে এই আন্দোলন নেপালের রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের দাবিকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় এক বিবৃতিতে পদত্যাগ নিশ্চিত করেছে। কেপি শর্মা ওলি বলেছেন, চলমান সংকটের সংবিধানসম্মত সমাধানের পথ সুগম করতে তিনি পদত্যাগ করছেন। মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ সারা দেশে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। এই সময় জনতা উত্তেজিত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার বাসভবনে হামলা চালায়।

সিভিল সার্ভিস হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক মোহন রেগমি জানিয়েছেন, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন এবং আরও ৯০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তথ্যসূত্র : বিবিসি,এনডিটিভি, আল-জাজিরা

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ