ঢাকা, শনিবার, ২ মে ২০২৬, ৮:০৩ পূর্বাহ্ন

৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন, স্ত্রী-ছেলেসহ সেই আবেদ আলীর নামে মামলা

পাঁচ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ৪৫ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবন, তার স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পী, এবং ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে।

রোববার (৫ জানুয়ারি) দুদকের উপ-পরিচালক বাদী হয়ে এসব মামলা দায়ের করেন। দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগের বিবরণ

তিনটি মামলার এজাহার অনুযায়ী:

  • সৈয়দ আবেদ আলী জীবনের ১২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জমা এবং ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা উত্তোলনসহ মোট ৪১ কোটি ২৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
  • আবেদ আলীর স্ত্রী শাহরিন আক্তার শিল্পীর দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা জমা ও ১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলনসহ ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ করা হয়েছে।
  • ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার ধারাসমূহ

মামলাগুলো দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

অতীতের ঘটনা

২০২৪ সালের জুলাইয়ে পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আবেদ আলীসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। সে সময় তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।

আবেদ আলী একসময় কুলির কাজ করলেও পরবর্তীতে গাড়ি চালানো শেখার পর পিএসসিতে চাকরি নেন। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে নিজ এলাকায় শিল্পপতি হয়ে ওঠেন।

চাকরি থেকে বরখাস্ত

২০১৪ সালে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আবেদ আলীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। পিএসসির রেকর্ড অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে গাড়িচালক হিসেবে চাকরি শুরু করা আবেদ আলী শেষ পর্যন্ত দুর্নীতির দায়ে অপসারিত হন।

এই মামলাগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ