বাসস
২০২৪ সাল বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী ও গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এ বছরটি শুধু জাতীয় ইতিহাস নয়, বিশ্ব ইতিহাসের অংশ হিসেবে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। নৃশংস স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশ মুক্ত করার জন্য ছাত্র-জনতার অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই বিজয়, বাংলাদেশের অস্তিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
গণঅভ্যুত্থানের বিজয়
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় ঘটনা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন, ধাপে ধাপে স্বৈরাচারী সরকার পতনের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নামের এক ছাত্রের শহীদ হওয়ার পর দেশব্যাপী আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়।
৫ আগস্ট ঢাকার রাজপথ লাখো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে। শেখ হাসিনা প্রাণভয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়, যার প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বছরের বিশেষ ঘটনা

১. স্বৈরাচারের পতন:
- ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে পলায়ন করেন।
- ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ।
২. ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ:
- ১৬ জুলাই আবু সাঈদের শহীদ হওয়া আন্দোলনকে আরও জোরদার করে।
- ৩ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া একদফা আন্দোলন দেশকে স্থবির করে তোলে।
৩. আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি:
- ১৯৮ বিশ্বনেতার সমর্থন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি।
- টাইম ম্যাগাজিনে নাহিদ ইসলাম এবং নেচার সাময়িকীতে ড. ইউনূসের স্বীকৃতি।
৪. দুর্নীতির শ্বেতপত্র:
- গত ১৫ বছরের দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরে প্রকাশিত শ্বেতপত্রে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচারের তথ্য।
প্রেরণার বছর ২০২৪
১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামের পর ২০২৪ সাল বাঙালির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের বছর। এই অভ্যুত্থান শুধু স্বৈরাচার হটানো নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের দীক্ষা এবং গণতন্ত্রের নতুন আলো জ্বালিয়েছে।
২০২৪ আমাদের স্মৃতিতে চিরজাগ্রত থাকবে, এক নতুন বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে।


















