বিশ্বজুড়ে গড়ে প্রতিটি মানুষ প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ৪০ মিনিট স্ক্রিনের সামনে সময় ব্যয় করেন। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট এবং ল্যাপটপের সহজলভ্যতা এবং প্রযুক্তির ক্রমাগত সাশ্রয়ী হয়ে ওঠা এর প্রধান কারণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
অনলাইন রিসোর্স ও ডাটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ডিমান্ডসেইজের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, যদিও ২০২১ সালের তুলনায় গড় স্ক্রিন টাইম ৪ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে, তবে ২০১৩ সালের তুলনায় এটি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে বেশি স্ক্রিন টাইম কাটান ১৬-২৪ বছর বয়সী নারী এবং ২৫-৩৪ বছর বয়সী পুরুষ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা। অন্যদিকে, ৪১ শতাংশ টিনএজারের স্ক্রিন টাইম দৈনিক ৮ ঘণ্টার বেশি।
বিশ্বজুড়ে গড় ইন্টারনেট ব্যবহার সময় দাঁড়িয়েছে ৬ ঘণ্টা ৫৮ মিনিট। সবচেয়ে বেশি সময় ইন্টারনেটে কাটায় সাউথ আফ্রিকা, যেখানে গড় ইন্টারনেট ব্যবহার সময় ১০ ঘণ্টা ৪৬ মিনিট। এরপর তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল এবং ফিলিপাইন, যেখানে এই সময় প্রায় ১০ ঘণ্টা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোন প্রযুক্তির একুশ শতকের অন্যতম বড় উদ্ভাবন। বর্তমানে বিশ্বে ৬৮০ কোটির বেশি মানুষ স্মার্টফোন ব্যবহার করেন। এককভাবে স্মার্টফোনের স্ক্রিন টাইম দৈনিক গড়ে ৩ ঘণ্টা ৪৩ মিনিট, যা মোট স্ক্রিন টাইমের ৫৩ শতাংশ।

স্ক্রিন টাইম বৃদ্ধির আরেকটি কারণ স্ট্রিমিং পরিষেবার জনপ্রিয়তা। হুলু, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম এবং ডিসনি প্লাসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো সময় ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেনজির (১৯৯৭-২০১২ সালে জন্ম নেয়া) ৭৬ শতাংশই স্বীকার করেছেন যে তারা স্মার্টফোনে অত্যধিক সময় কাটান।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্ক্রিন টাইমের এই প্রবণতা বিশ্বব্যাপী মানুষের জীবনযাত্রার ধরণ এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারকে প্রতিফলিত করে।


















