ঢাকা, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন

লাহোরকে হারিয়ে ফাইনালে রংপুর

প্রথম দুই ম্যাচে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও হতাশার হারে বিদায়ের ধ্বনি শুনতে পাচ্ছিল যে দল, সেই দলই পরের দুই ম্যাচে প্রত্যবর্তনের গল্প লিখে উঠে গেল গ্লোবাল সুপার লিগের ফাইনালে!

গায়ানায় বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সকে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে ২৩ রানে হারিয়ে গ্লোবাল সুপার লিগের প্রথম আসরের ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশের প্রতিনিধি রংপুর রাইডার্স।

ফাইনালে যেতে লাহোর কালান্দার্সকে জিতলেই হতো। আর রংপুরের জন্য জয়ের পাশাপাশি ছিল রান রেটের সমীকরণ। ব্যাটে-বলে সব সমীকরণ মিলিয়ে বড় জয়ে ফাইনালে উঠে গেছে নুরুল হাসান সোহানের দল।

প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে শেষ হওয়া ম্যাচে রংপুর ৯ ওভারে তোলে ৮৫ রান। এরপর বৃষ্টির কারণে তারা আর ব্যাটিং করতে পারেনি। ঝড়ো ব্যাটিং উপহার দেন ক্রিজে যাওয়া তিন ব্যাটসম্যান স্টিভেন টেইলর, সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসান।

রংপুর স্রেফ একটি উইকেট হারানোয় ডিএলএস পদ্ধতিতে লাহোরের লক্ষ্যটা দাঁড়ায় অনেক বড়, ৯ ওভারে ১১১। কিন্তু শেখ মেহেদির হাসানের প্রথম ওভারেই বড় ধাক্কা খায় তারা তিন উইকেট হারিয়ে। পরে চেষ্টা করেও তারা যেতে পারে কেবল ৮৭ রান পর্যন্ত।

ম্যাচে বৃষ্টি হানা দেয় বারবার। ম্যাচ শুরু হয় অনেক দেরিতে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরে উড়ন্ত শুরু এনে দেন টেইলর ও সৌম্য। চার ওভারে রান যখন ৪৬, বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। ম্যাচ নেমে আসে ১৬ ওভারে।

খেলা আবার শুরুর দ্বিতীয় বলেই বিদায় নেন সৌম্য। ১৩ বলে ২২ রান করে তিনি বোল্ড হন বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জার বলে।

তবে রংপুরের ঝড় থামেনি। ৫ ওভারে তারা তোলে ৫৮ রান। খানিক পর বৃষ্টিতে আবার বন্ধ হয় খেলা। রংপুরের ব্যাটিং আর শুরু হতে পারেনি। টেইলর ২৭ বলে ৩২ এবং সাইফ ১৪ বলে ২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

ম্যাচের আগে রংপুরের জন্য বড় ধাক্কা ছিল খুশদিল শাহর দেশে ফিরে যাওয়া। তবে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান ব্যাটিংয়ের অভাব অনুভূত হয়নি তাদের।

লাহোরের লক্ষ্য ছিল ৯ ওভারে ১১১, তবে রংপুরে ফাইনালে উঠতে হলে জিততে হতো চার বা এর বেশি রানে।

প্রথম ওভারেই লাহোর হারায় ৩ উইকেট। তৃতীয় বলে রান আউট হন অ্যাডাম রেসিংটন। এরপর টানা দুই বলে লুক ওয়েলস ও মোহাম্দ ফাইজানকে ফেরান শেখ মেহেদি হাসান। হয়ে যায় দলীয় হ্যাটট্রিক! ওভারের শেষ বলটি মির্জা তাহির বেগ ঠেকিয়ে দেওয়ায় শেখ মেহেদির হ্যাটট্রিক হয়নি।

হারমিত সিংয়ের বলে ছক্কা ও চার মেরে হাত খোলার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ আখলাক। কিন্তু পরের ওভারেই তাকে বিদায় করেন শেখ মেহেদি।

তিন ওভারে চার উইকেট হারানোর ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি পাকিস্তানের দলটি। তবে ইংলিশ ব্যাটসম্যান টম অ্যাবেল ও মির্জা বেগ চেষ্টা করেছেন।

১২ বলে ২৫ রান করা অ্যাবেলকে থামান তার স্বদেশী জ্যাক চ্যাপেল। ২০ বলে ৩১ রান করা মির্জাকে ফেরান কামরুল হাসান। বড় জয় পায় রংপুর।

ফাইনালের রংপুরের প্রতিপক্ষ ক্রিকেট ভিক্টোরিয়া। ম্যাচ শুরু শনিবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায়।

প্রাথমিক পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে ১০ রানে জিতেছিল অস্ট্রেলিয়ার দল ভিক্টোরিয়া।

প্রাথমিক পর্বের দুই ম্যাচ জিতে ৫০ হাজার ডলার প্রাইজমানি পেয়ে গেছে রংপুর। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে জিতবে ৫ লাখ ডলার। আর রানার্স আপ দলের জন্য আড়াই লাখ ডলার তো আছেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর রাইডার্স: ৯ ওভারে ৮৫/১ (টেইলর ৩২*, সৌম্য ২২, সাইফ ২৭*; সালমান ২-০-২৬-১, ফাহিম ২-০-২২-০, আফ্রিদি ২-০-১৯-০, শামসি ২-১-১০-০, ওয়েলস ১-০-৭-০)।

লাহোর কালান্দার্স: (লক্ষ্য ৯ ওভারে ১১১) ৯ ওভারে ৮৭/৭ (ওয়েলস ০, রসিংটন ১, আখলাক ১১, ফাইজান ০, মির্জা ৩১, অ্যাবেল ২৫, ফাহিম ১৮*, ব্র্যাথওয়েট ০, আফ্রিদি ১*; শেখ মেহেদি ২-০-১১-৩, হারমিত ২-০-২০-০, রিশাদ , কামরুল ২-০-২২-১, চ্যাপেল ২-০-১৭-২)।

ফল: ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে রংপুর রাইডার্স ২৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: স্টিভেন টেইলর।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ