শুক্রবার রাতের ভয়াবহ ভূমিকম্পের শোক এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেপাল। এখানো ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকায় চলছে উদ্ধারকাজ। ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে আসছে একের পর এক মরদেহ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আবারও ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে নেপালে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৬।
রোববার ভোরে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
নেপালের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৩৮ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল কাঠমান্ডু থেকে ১৬৯ কিলোমিটার দূরে ও ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে শুক্রবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নেপালে ৬.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়।
নেপালের জাতীয় ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ধাদিং জেলায়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূমিকম্পে দিল্লি এবং আশপাশের শহরগুলোতে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। দিল্লির বাসিন্দারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝুলন্ত ঝাড়বাতি এবং পাখার নড়ে ওঠার ভিডিও পোস্ট করে। এতে বোঝা যায় ভূমিকম্প কতটা শক্তিশালী ছিল।

নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা রামা আচার্য বলেছেন, ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের ১০৫ জন জাজারকোট ও ৫২ জন রুকুমের বাসিন্দা।
প্রসঙ্গত, তিব্বতীয় ও ভারতীয় টেকটনিক প্লেটের ভাঁজে নেপালের অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। ২০১৫ সালে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেবারের ভূমিকম্পে ৮ হাজার ৯৬৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। এ ছাড়া আহত হয়েছিল আরও ২২ হাজার মানুষ। ৫ লাখ বাড়িঘর ধ্বংস হওয়া ছাড়াও প্রায় ৮ হাজার স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছিল।


















