বাংলাদেশে ভারতীয় পেঁয়াজ রপ্তানিতে সর্বনিম্ন মূল্যসীমা বেঁধে দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে এখন থেকে প্রতি টন পেঁয়াজ রপ্তানির দর দ্বিগুণ করে ৮০০ ডলার নির্ধারণ করেছে ভারত।
দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে শনিবার (২৮ অক্টোবর) এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এই সিদ্ধান্ত গতকাল রবিবার (২৯ অক্টোবর) থেকে কার্যকর হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই নির্দেশনা কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয় প্রজ্ঞাপনে।
সম্প্রতি ফলন কম হওয়াসহ ভারতের বেশ কিছু রাজ্যে বন্যার কারণে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম কমানোর লক্ষ্যেই পেঁয়াজ রপ্তানিতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরবরাহ ও দাম ঠিক রাখতে রপ্তানির ন্যূনতম মূল্য বেঁধে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। প্রতি টন পেঁয়াজের দাম ৮০০ ডলার হলে কেজিপ্রতি এর রপ্তানি মূল্য পড়বে ৬৭ রুপি। দেশের ভেতরে কোনো কোনো বাজারে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৮০ রুপি পর্যন্ত উঠে গেছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্বের যেকোনো দেশেই যেকোনো পরিমাণে পেঁয়াজ রপ্তানি করা যাবে। এ বিষয়ে বাধা নেই। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি টন পেঁয়াজে ন্যূনতম ৮০০ ডলার নিতে হবে, এর নিচে নয়। জাহাজে পরিবহন ও বীমার খরচ এই দামের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়।

এর আগে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পেঁয়াজ রপ্তানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। তখন এ নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এমনকি তারা ধর্মঘটও করেন। এর মধ্যে আবার রপ্তানির ন্যূনতম দাম বেঁধে দেওয়া হলো।
ভারত সরকারের বক্তব্য, বর্তমানে পেঁয়াজের মজুদ স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
বছরের শুরুর দিকে অসময়ে বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে মজুদের প্রায় ৪০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সামগ্রিকভাবে এবার পেঁয়াজের উৎপাদনও কমে গেছে। ভারতে গত বছর ২.৫৩ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। অথচ এ বছর পেঁয়াজ চাষের জমি কমে ২.৩১ লাখ হেক্টর হয়েছে। তবে এই বিজ্ঞপ্তি জারির আগে যেসব পেঁয়াজ শুল্কায়নের জন্য বন্দরে আনা হয়েছে, সেই পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই ন্যূনতম মূল্য প্রযোজ্য হবে না।
চলতি বছর অতিবৃষ্টির কারণে ভারতে টমেটোর দাম আকাশ ছুঁয়েছিল। এখন পেঁয়াজের দাম বাড়লে ভোটের রাজনীতিতে তার প্রভাব পড়বে। অন্যদিকে পেঁয়াজের দাম কম রাখতে গিয়ে চাষিরা ঠিক দাম না পেলে তার ক্ষোভও সামলাতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দ্বিমুখী সমস্যায় পড়ে মোদি সরকার একই সঙ্গে ক্রেতা ও চাষিদের মধ্যে ভারসাম্য রাখার নীতি নিয়েছে। সেটা হলো, চাষিদের কাছ থেকে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে কম দামে দেশের বাজারে বিক্রি করা। সে জন্য যত ভর্তুকি লাগবে, তা কেন্দ্রীয় সরকার বহন করবে।
এদিকে, গত ২৩ আগস্টের পর বেনাপোল বন্দর দিয়ে আসেনি ভারতীয় পেঁয়াজ। ফলে বাজারে কয়েক দফায় বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। দুদিনের ব্যবধানে ৮০ টাকা থেকে বেড়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
তবে ভারত থেকে পেঁয়াজের রপ্তানিতে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাননি বলে জানান বন্দর পরিচালক আব্দুল জলিল।


















