ঢাকা, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন

হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়ালে লেবাননকে ধ্বংসের হুমকি ইসরায়েলের

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হিজবুল্লাহর ট্যাঙ্ক-বিরোধী রকেট ইসরায়েলে হামলা চালায়। এতে উত্তর ইসরায়েলে একজনের মৃত্যু হয়। এর প্রতিশোধ নিতে, লেবাননে বিমান হামলা শুরু চালায় ইসরায়েল। কারণ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, হিজবুল্লাহ যুদ্ধে প্রবেশ করলে তারা দেশটিকে ধ্বংস করবে। খবর টেলিগ্রাফের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যর অনেক দেশ জড়িয়ে যেতে পারে। হামাসের সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলো যোগ দিলে ভয়াবহ সংঘাতের রুপ নিতে পারে। এমন আশঙ্কার মধ্যেই লেবাননে বিমান হামলা চালালো ইসরায়েল।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জাচি হানেগবি হিজবুল্লাহকে দ্বিতীয় ফ্রন্টে যুদ্ধ শুরু না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, যদি তারা এটি করে তবে লেবাননের ধ্বংস করা হবে।

পশ্চিমা দেশগুলো এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে। তা যেন বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য পদক্ষেপ নেয়ার চেষ্টা করছে তারা। বিশেষ করে ইরানকে দূরে রাখতে ভূমধ্যসাগরে দুটি যুদ্ধবিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওদিকে উত্তেজনা কিভাবে প্রশমন করা যায় তা নিয়ে রোববার জর্ডানের বাদশা আবদুল্লাহর সঙ্গে কথা বলেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক। তারা মধ্যপ্রাচ্যে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়া রোধে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে, ইসরাইলি সরকার এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই উদ্যোগের বিষয়ে কথা হয়। হোয়াইট হাউসের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভানও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখছেন। কূটনৈতিক ব্যাকচ্যানেল দিয়ে এই যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়তে ইরানকে সতর্ক করা হয়েছে। ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র রকেট বিনিময় হয়েছে বলে রিপোর্ট করেছে জাতিসংঘ।

জাতিসংঘ জানিয়েছে যে, আইডিএফ এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে গুলি বিনিময়ের কারণে ওই এলাকায় তীব্র রকেট হামলা হয়েছে।

ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেসের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল পিটার লারর্নার হিজবুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‌‘সীমান্ত অতিক্রম করে যুদ্ধের বিষয়ে তাদের খুবই সতর্ক হওয়া উচিত। হিজবুল্লাহর সঙ্গে কয়েকদিনে সীমান্তে আমাদের কয়েক দফা রকেট বিনিময় হয়েছে। হিজবুল্লাহকে হামাসের পরিণতি দেখার অনুরোধ করছি আমরা।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনির দক্ষিণে অভিযানের সময় ১৪০০ বেসামরিক ইসরায়েলি হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে হামাসকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

একটি বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, আইডিএফ হামলার অংশ হিসাবে এবং গাজা উপত্যকায় সন্ত্রাসী অবকাঠামোতে তারা হামাসের কমান্ডার বিলাল আল কেদরাসহ অন্যান্য হামাস সদস্যদের হত্যা করেছে। তারা বলেছে, কিবুতজ নিরিম এবং নির ওজ গণহত্যার পিছনে হামাস নেতা আল কেদরা ছিল।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এ পর্যন্ত ২৪৫০ জন নিহত হয়েছে।

ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ গাজায় পানি সরবরাহ চালু করেছে। সেই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ফিলিস্তিনের উত্তর অংশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এদিকে ইরান জানিয়েছিল, গাজা আক্রমণ করলে সংঘাতের অঞ্চল প্রসারিত হতে পারে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, তেহরান দর্শক হয়ে থাকতে পারবে না এবং যুদ্ধ প্রসারিত হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্ষতির মুখে পড়বে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ এবং সংঘাতের বিস্তার না হওয়ার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি আলাদাভাবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে বলেছিলেন, যদি গাজা অবরোধ বন্ধ না হয় পরিস্থিতি জটিল হতে পারে এবং দৃশ্য প্রসারিত হতে পারে।

নিউজটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

ট্যাগঃ